বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিমালা

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় এক সোনালী অধ্যায়ের নাম কৃষি, যার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে এদেশের দেড় কোটি কৃষক পরিবারের অক্লান্ত পরিশ্রম ও উৎসর্গ। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা নির্বিশেষে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রমে কৃষকের উৎপাদিত শস্য ও অন্যান্য কৃষিজাত দ্রব্য প্রতিনিয়ত সমৃদ্ধ করে চলেছে আমাদের খাদ্যের ভা-ার। এদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) কৃষি খাতের অবদান প্রায় ১৫ শতাংশ (২০০৫-০৬ অর্থবছরের স্থির মূল্যে)। দেশের প্রায় ৪৩ শতাংশ শ্রমজীবী মানুষ প্রত্যক্ষভাবে এবং ৮৫ শতাংশ জনসাধারণ জীবন-জীবিকা ও কর্মসংস্থান এর জন্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির উপর নির্ভরশীল। কৃষিকাজের সাথে জড়িত এই বিপুল জনগোষ্ঠির নিরলস পরিশ্রম ও অনবদ্য প্রয়াসের দ্বারা উৎপাদিত ফসল থেকেই সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে দেশের মোট খাদ্য চাহিদার প্রায় শতভাগ। শুধুমাত্র জনগণের খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির নিশ্চয়তা প্রদানেই নয়, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাসকরণ ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতেও অপরিসীম অবদান রেখে কৃষি পরিণত হয়েছে সামাজিক কর্মকান্ডের এক বিশেষ ক্ষেত্রে। তাই দেশের সামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে কৃষিক্ষেত্রে যথাযথ প্রেরণা, প্রেষণা ও পুঁজির যথাযথ প্রবাহ বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।কৃষিক্ষেত্রে কমপক্ষে ৪-৪.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি সমুন্নত রাখা ছাড়া ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়। তাছাড়া, টেকসই উন্নয়নের নির্ধারিত লক্ষ্যের প্রথম ও প্রধান তিনটি লক্ষ্য তথা দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষুধা মুক্তি এবং সুস্বাস্থ্য অর্জনে কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের উন্নয়নের কোন বিকল্প নেই। এ কারণে অগ্রাধিকার খাত কৃষির উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সামগ্রিকভাবে কৃষি উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিকরণ, কৃষক ও সম্প্রসারিত জনবলের দক্ষতা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে বিশেষায়িত সেবা প্রদান, রপ্তানি উপযোগী কৃষি বাণিজ্যিকীকরণ ও চুক্তিবদ্ধ চাষাবাদ পদ্ধতি প্রচলনসহ কৃষি কার্যক্রম বহুমূখীকরণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে সবার জন্য খাদ্য ও পুষ্টির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন করা। এছাড়া, ক্রমহ্রাসমান আবাদী জমিতে উন্নত উপকরণ ও নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি পণ্যের উৎপাদন অধিকতর বৃদ্ধিকল্পে সরকার কর্তৃক ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ২০১৬-২০২০ গৃহীত হয়েছে। পাশাপাশি, কৃষিখাতকে টেকসই ও সমৃদ্ধ করতেও গৃহীত হচ্ছে কৃষিবান্ধব বিভিন্ন প্রশংসনীয় উদ্যোগ। সরকারের এসব উদ্যোগ ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকও গ্রহণ করছে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির বিভিন্ন কৌশল। বর্তমান সরকার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের এসব কার্যকরী পদক্ষেপ কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি করে বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পল্লী এলাকায় অধিকতর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার মাধ্যমে জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।উপযুক্ত গ্রাহকের কাছে কৃষি ও পল্লী ঋণের অবাধ প্রবাহের সুযোগ সৃষ্টি এবং পল্লী অঞ্চলে কৃষি ঋণের প্রবাহ বৃদ্ধি করে গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন ব্যতিরেকে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। কৃষি ও কৃষিভিত্তিক শিল্পের উন্নয়নে প্রয়োজন আধুনিক কৃষি-প্রযুক্তি এবং যন্ত্রপাতি; যা নিজস্ব অর্থায়নে ক্রয় করার সামর্থ্য এদেশের অধিকাংশ কৃষকেরই নেই। নগদ অর্থের প্রয়োজনে কৃষককে প্রায়ই দ্বারস্থ হতে হয় অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎসের, যার ফলে প্রায়শঃ তাদেরকে পরিশোধ করতে হয় উচ্চ হারের সুদ। অপ্রাতিষ্ঠানিক ঋণের উচ্চ সুদহারের জাল থেকে কৃষকের মুক্তির পথ সৃষ্টি করতেই বাংলাদেশ ব্যাংক ক্ষুদ্র, প্রান্তিক কৃষক ও বর্গাচাষিসহ সকল প্রকৃত কৃষকদের কাছে যথাসময়ে, স্বল্প সুদে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ও হয়রানিমুক্তভাবে প্রয়োজনীয় পরিমাণ প্রাতিষ্ঠানিক কৃষি ঋণ সরবরাহ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে আসছে এবং প্রতি অর্থবছরে কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ঘোষণার মাধ্যমে কৃষকদের নিকট  বর্ধিতহারে নগদ অর্থের প্রবাহ চলমান রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষিতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মোতাবেক রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি বেসরকারী ও বিদেশী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কৃষি ও পল্লী খাতে ঋণ বিতরণ করে আসছে। বেসরকারী ও বিদেশী ব্যাংকসমূহের মধ্যে যে সকল ব্যাংকের পল্লী এলাকায় শাখার স্বল্পতা রয়েছে, সে সকল ব্যাংক নিজস্ব সক্ষমতার মাধ্যমে ঋণ বিতরণের পাশাপাশি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের (এমএফআই) সাথে পার্টনারশিপের মাধ্যমে এবং এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেও কৃষি ঋণ বিতরণ করছে।বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক গৃহীত কৃষি ও কৃষক বান্ধব নানাবিধ প্রচেষ্টার ফলে কৃষি ঋণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা গেলেও কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে না পারা ও জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলা করার মতো কতিপয় বিষয়গুলি এখনও সমাধানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক অবস্থা বিশেষ করে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, লবণাক্ততা বৃদ্ধিসহ নানাবিধ প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের কৃষিকে প্রতিনিয়ত নতুনভাবে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন করে তুলছে। এছাড়া, কৃষি খাতে সঠিক পরিকল্পনা ও যান্ত্রিকীকরণের অভাব, অপরিকল্পিত সার ও কীটনাশকের ব্যবহার প্রভৃতি কৃষির টেকসই উৎপাদনের ক্ষেত্রে অন্তরায়। ফলে, বাংলাদেশের কৃষি খাতের সার্বিক উন্নয়নে বিভিন্ন অঞ্চলে ক্ষুদ্র সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল বীজ উৎপাদন ও বিতরণ, এলাকাভেদে জলবায়ু ও পরিবেশ উপযোগী ফসলের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং সম্প্রসারণ কার্যক্রম গ্রহণ করাসহ প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হওয়া নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন নতুন সঙ্গতিপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ নেয়ার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।এ প্রেক্ষিতে, উদ্ভূত সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারের কৃষি ও কৃষকবান্ধব নীতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিগত অর্থবছরের (২০১৬-১৭) কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচির মূল দিকগুলো ঠিক রেখে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচিতে যে সকল নতুন বিষয় সংযোজন করা হয়েছে তার মধ্যে কৃষি ও পল্লী ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ও

কৃষি ঋণের আওতা বৃদ্ধি, আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ, পল্লী এলাকায় ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্প্রসারণে প্রযুক্তির প্রসারসহ পল্লী এলাকায় অর্থ প্রবাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার এবং গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচনের উদ্দেশ্যে ১৭,৫৫০ কোটি টাকার কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বিগত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। শস্য ও ফসল ঋণের পাশাপাশি কৃষির অন্য দুটি প্রধান খাত- মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত, কৃষির সহায়ক খাতসমূহের পাশাপাশি পল্লী অঞ্চলের আয় উৎসারী কর্মকা- ও দারিদ্র্য বিমোচন খাতে কৃষি ও পল্লী ঋণ কর্মসূচির আওতায় পর্যাপ্ত ঋণ বিতরণ করা হয়।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ০৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ০২টি ব্যাংক, ৩৮টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক, ও ০৯টি বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক দেশে মোট ২০,৯৯৮.৭০ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ করেছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ১১৯.৬৫           শতাংশ। ঋণ বিতরণের এ পরিমাণ পূর্ববর্তী অর্থবছরের (২০১৫-১৬) তুলনায় ৩,৩৫২.৩১ কোটি টাকা বা ১৯.০০ শতাংশ বেশি। এছাড়া বিআরডিবি কর্তৃক ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৮৬৬.২৫ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ করা হয়েছে । উল্লেখ্য যে, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে কয়েকটি ব্যাংক ইতোমধ্যে আলাদা কৃষি ও পল্লী ঋণ বিভাগ বা উপবিভাগ গঠন করে দক্ষ জনবল নিয়োগের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে।

ক্স            ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মোট ৩৮,৫৬,৬৩৫ জন কৃষি ও পল্লী ঋণ পেয়েছেন, যার মধ্যে ব্যাংকের নিজস্ব নেটওয়ার্ক ও এমএফআই লিংকেজের মাধ্যমে ১৮,৪৭,০৬৫ জন নারী বিভিন্ন ব্যাংক হতে প্রায় ৬,২৪০.৬৬ কোটি টাকা ঋণ পেয়েছেন।

ক্স            স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কৃষি ঋণ প্রদানের উদ্দেশ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, শিক্ষক এবং অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বিভিন্ন ব্যাংকের উদ্যোগে কৃষি ঋণ বিতরণ করা হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিভিন্ন ব্যাংক কর্তৃক আয়োজিত মোট ১৫,০৮৮ টি প্রকাশ্য ঋণ বিতরণ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ১,১৮,৯৬৭ জন কৃষকের মাঝে প্রায় ৩৮৭.২৬ কোটি টাকা কৃষি ঋণ প্রকাশ্যে বিতরণ করা হয়।

ক্স            ২০১৬-১৭ অর্থবছরে  ২৯,৭৪,৪০৭ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ১৪,৯৩০.৪৬ কোটি টাকা কৃষি ঋণ পেয়েছেন।

ক্স            ২০১৬-১৭ অর্থবছরে চর, হাওর প্রভৃতি অনগ্রসর এলাকার ৮,৭৩১ জন কৃষকের মাঝে বিভিন্ন ব্যাংকের উদ্যোগে প্রায় ৪০.০০ কোটি টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

ক্স            কৃষকদের জন্য রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোতে মাত্র ১০ টাকা জমা গ্রহণপূর্বক এ পর্যন্ত প্রায় ৯৯.১২ লক্ষ হিসাব খোলা হয়। এসব হিসাবের মাধ্যমে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত ভর্তুকি ছাড়াও কৃষি ঋণ বিতরণ, সঞ্চয় জমা ও উত্তোলন, রেমিট্যান্স জমা ইত্যাদি কাজে ব্যবহারের জন্য ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এই হিসাবসমূহ স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে কিভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে সে ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত তদারকি করছে।

ক্স            আমদানি বিকল্প নির্দিষ্ট কিছু ফসলে (ডাল, তৈলবীজ, মসলা জাতীয় ফসল ও ভুট্টা) ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদহারে কৃষি ঋণ বিতরণ কার্যক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ব্যাপক প্রচারণার ফলে কৃষকদের মাঝে এ জাতীয় ফসল চাষ করার বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। এই খাতে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রায় ৮১.৬৬ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। যার ফলে স্থানীয়ভাবে এসব ফসলের উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে এবং বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এ খাতে বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৮১.৮৭ কোটি টাকা।

ক্স            ২০১৬-১৭ অর্থবছরে পার্বত্য চট্টগ্রামের ৩টি জেলায় প্রায় ১৯,০২৩ জন উপজাতি কৃষকের মাঝে মাত্র ৫ শতাংশ সুদহারে  ৪৭.৯১ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

ক্স            কৃষি ও পল্লী ঋণসহ গ্রাহকের স্বার্থ সংরক্ষণ, ব্যাংকিং খাতের সেবা পেতে যে কোন ধরনের হয়রানির হাত থেকে গ্রাহকদের রক্ষা করা এবং তাদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ কেন্দ্র- ঈঁংঃড়সবৎং' ওহঃবৎবংঃ চৎড়ঃবপঃরড়হ ঈবহঃবৎ (ঈওচঈ) স্থাপন করা হয়েছে। উক্ত কেন্দ্রে ১৬২৩৬ নম্বরের একটি হটলাইনও চালু করা হয়েছে। উক্ত কেন্দ্রে প্রাপ্ত কৃষি ও পল্লী ঋণ বিষয়ক অভিযোগসমূহের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং হচ্ছে।

ক্স            কৃষি ঋণ গ্রহীতাদের মোবাইল নম্বর ব্যাংক শাখায় সংরক্ষণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এবং বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক কৃষকদের কৃষি ঋণ প্রাপ্তির ব্যাপারে মনিটরিং আরও জোরদার করা হয়েছে।

ক্স            ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিভিন্ন ব্যাংক কর্তৃক সফল কৃষকদের মাঝে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের মাধ্যমে পরিচালিত বর্গাচাষিদের জন্য ‘বিশেষ কৃষি ঋণ কর্মসূচি’র আওতায় ২০১৬-১৭  অর্থবছরে ব্র্যাকের মাধ্যমে দেশের ৪৮টি জেলার ২৫০টি উপজেলায় ব্যাংক ঋণের আওতার বাইরে থাকা প্রায় ১,৫০,৭১৩ জন বর্গাচাষি শস্য ও ফসল ঋণ বাবদ প্রায় ৫৬১.৮৫ কোটি টাকা কৃষি ঋণ সহায়তা পেয়েছেন। উর্বর জমি থাকা সত্ত্বেও দারিদ্র্যক্লিষ্ট বাংলাদেশের উত্তর পশ্চিম অঞ্চলের দারিদ্র্য নিরসনের উদ্দেশ্যে সনাতনী কৃষির পরিবর্তে উচ্চমূল্য ফসল/সবজি/ফল উৎপাদনের মাধ্যমে সরকার কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন উত্তর-পশ্চিম শস্য বহুমুখীকরণ প্রকল্পের/ঘড়ৎঃযবিংঃ ঈৎড়ঢ় উরাবৎংরভরপধঃরড়হ চৎড়লবপঃ (ঘঈউচ) মেয়াদ ৩০ জুন ২০০৯ তারিখে শেষ হয়। এই প্রকল্পের সফলতার প্রেক্ষিতে ঋণ চুক্তির শর্তানুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় ১৭৪ কোটি টাকা একটি রিভলভিং ফান্ড গঠন করা হয়েছে যার আওতায় রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের হোলসেলিং- ব্যবস্থাপনায় ৪টি এমএফআই’র মাধ্যমে (ব্র্যাক, প্রশিকা, আরডিআরএস এবং জিকেএফ) রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬টি জেলার ৬১টি উপজেলায় ০.২ থেকে ১.২ হেক্টর জমির অধিকারী ১.৮৬ লক্ষ কৃষকের (যাদের ৬০ শতাংশই নারী) মাঝে ঋণ প্রদান করা হচ্ছে, যা বর্তমান অর্থবছরেও অব্যাহত থাকবে।

ঘঈউচ প্রকল্পের ন্যায় ঝবপড়হফ ঈৎড়ঢ় উরাবৎংরভরপধঃরড়হ চৎড়লবপঃ (ঝঈউচ)-এর আওতায় গত অর্থবছরে ইস্টার্ন ব্যাংক লিঃ এবং বেসিক ব্যাংক লিঃ-এর হোলসেলিং ব্যবস্থাপনায় ব্র্যাকের মাধ্যমে যোগ্য কৃষকদের মাঝে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। আলোচ্য প্রকল্পে ক্রেডিট ক¤েপানেন্ট ২৬ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ প্রায় ২০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক হতে প্রকল্পে অংশগ্রহণকারী দুটি হোল সেল ব্যাংককে প্রায় ২০৩ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আর্থিক সংকট বিরাজমান থাকা সত্ত্বে¡ও সরকারের রাজস্বনীতি ও বিভিন্ন উন্নয়নমুখী কার্যক্রম গ্রহণ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সংযত ও বিচক্ষণ মুদ্রানীতি গ্রহণের ফলে বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল দেশে মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।  এর ফলে, ২০০৯-১০ থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত আট অর্থবছরে গড়ে ৬ শতাংশের উপর জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতির কুশলী বাস্তবায়নের ফলে গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি এক অঙ্কের সহনীয় মাত্রায় বজায় থেকেছে। এ ক্ষেত্রে লক্ষণীয় যে, খাদ্য মূল্যস্ফীতিও এক অঙ্কের সহনীয় মাত্রায় ও নি¤œমুখী ধারায় ছিল। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী সাহায্য করেছে ব্যাপক খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে আবাদি জমির পরিমাণ হ্রাস পেলেও বাংলাদেশে কৃষি পণ্য উৎপাদনে ধারাবাহিক বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। স্বাধীনতা পরবর্তীকালের তুলনায় বর্তমানে চালের উৎপাদন প্রায় তিনগুন হয়েছে। এছাড়া, আমদানী নিরুৎসাহিতকরণের লক্ষ্যে আমদানী বিকল্প কয়েকটি খাতে রেয়াতি সুদহারে ঋণ প্রদানের ফলে সেসব খাতেও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষি খাতের বাইরে সব ধরণের অর্থনৈতিক কর্মকা-ের ব্যাপকতা বৃদ্ধির কারণে সারাদেশে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এর ফলে এর বাজারও সম্প্রসারিত হয়েছে।

কৃষি পল্লী ঋণের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক বিশেষায়িত ব্যাংকসমূহ কর্তৃক তাদের স্বনির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা এবং বেসরকারী বিদেশী বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের নীট ঋণ অগ্রিমের % হারে হিসাবায়ন করে চলতি অর্থবছরে কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ২০,৪০০ (বিশ হাজার চারশত মাত্র) কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বিগত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের তুলনায় এই পরিমাণ প্রায় ১৬.২৪ শতাংশ বেড়েছে এছাড়া, ব্যাংকগুলোর জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বাইরে বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিঃ এবং বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) নিজস্ব অর্থায়নে যথাক্রমে ২০ কোটি টাকা এবং ৭২০ কোটি টাকা কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণ করবে

ড়            দেশের সকল বেসরকারি ও বিদেশী বাণিজ্যিক ব্যাংককে স্ব-স্ব ব্যাংকের মোট ঋণ ও অগ্রিমের ন্যূনতম ২.৫ শতাংশ কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের বিধান প্রবর্তিত থাকা সত্ত্বেও  ব্যাংকসমূহের সক্ষমতা ও শাখা স্বল্পতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিগত অর্থবছরের ন্যায় চলতি অর্থবছরেও বেসরকারী ও বিদেশী বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের ৩১শে মার্চ, ২০১৭ ভিত্তিক নীট ঋণ ও অগ্রিমের ২% হারে হিসাবায়ন করে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের এ লক্ষ্যমাত্রা আবশ্যিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। লক্ষ্যমাত্রার পরিমাণে শিথিলতা প্রদানের পরেও যে সকল ব্যাংক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হবে না তাদেরকে অর্থবছর শেষে লক্ষ্যমাত্রার অনর্জিত অংশের সমপরিমান অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট বাধ্যতামূলকভাবে জমা করতে হবে। তবে, বাংলাদেশ ব্যাংক উক্ত জমাকৃত অর্থের ওপর কোনরূপ সুদ প্রদান করবে না।

ড়            কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা অনুযায়ী কৃষি ঋণের প্রধান (পড়ৎব) ৩টি খাতে (যথা-শস্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ) অন্যান্য খাতের চেয়ে ঋণ বিতরণে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

ড়            সম্ভাব্য যোগ্য ঋণগ্রহীতা কৃষকদের নিকট কৃষি ঋণের আবেদনপত্র সহজলভ্য করতে হবে।

ড়            কৃষকদের ঋণ আবেদনের প্রাপ্তিস্বীকার করতে হবে। কৃষি ঋণের জন্য কৃষকদের কোনো ঋণ আবেদন বিবেচনা করা না গেলে ঋণ না পাওয়ার কারণ উল্লেখ করে পত্রের মাধ্যমে কৃষককে জানাতে হবে এবং তা একটি ফাইলে সংরক্ষণ করতে হবে।

ড়            আবেদন ফরম পূরণসহ আনুষঙ্গিক কাজে যাতে কালক্ষেপণ না হয় সে জন্যে আবেদন ফরম গ্রহণের সময়ই গ্রাহককে এতদ্সংক্রান্ত সকল প্রকার নির্দেশনা প্রদান করতে হবে। সহায়ক কোনো তথ্যের প্রয়োজন হলে একটি মাত্র বৈঠকেই সকল তথ্য গ্রাহককে জানাতে হবে।

ড়            শস্য ও ফসল চাষের জন্য ঋণের আবেদন দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ঋণের আবেদন নিষ্পত্তিকরণের সময়সীমা হবে সর্বোচ্চ ১০ কর্মদিবস।

ড়            দশ টাকায় খোলা কৃষক একাউন্টসমূহের মাধ্যমে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে ইতোমধ্যে উক্ত একাউন্টের সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ডেবিট/ক্রেডিট স্থিতির ক্ষেত্রে আবগারী শুল্ক কর্তন হতে অব্যহতি প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া উক্ত হিসাব ব্যবহারে গতিশীলতা আনয়নে বিগত ০৬ নভেম্বর, ২০১২ তারিখে একটি সার্কুলার লেটার জারী করা হয়েছে। বিবরণীভিত্তিক তত্ত্বাবধানের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক কৃষকের ১০ টাকার হিসাবের প্রকৃত ব্যবহার এবং এতদসংশ্লিষ্ট অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে।   

ড়            কৃষক পর্যায়ে সময়মত কৃষি ঋণ পৌঁছানোর স্বার্থে স্বল্পমেয়াদী শস্য/ফসল চাষের জন্য সর্বোচ্চ ২.৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বল্পমেয়াদী কৃষি ঋণের ক্ষেত্রে সিআইবি রিপোর্টিং ও সিআইবি ইনক্যোয়ারি প্রয়োজন হবে না।

ড়            অঞ্চলভিত্তিক ফসল উৎপাদন, ফসলের ধরণ অর্থাৎ যে এলাকায় যে ফসল ভাল উৎপাদন হয় সেগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে অৎবধ ধঢ়ঢ়ৎড়ধপয পদ্ধতিতে বাস্তবভিত্তিক কৃষি ঋণ বিতরণ করতে হবে।

ড়            কৃষি ঋণ সুবিধায় বর্গাচাষিসহ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের কাছে সময়মত প্রয়োজনীয় পরিমাণ অর্থের যোগান দেয়া কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালার অন্যতম উদ্দেশ্য। অপেক্ষাকৃত অনগ্রসর এবং উপেক্ষিত এলাকায় (যেমনঃ চর, হাওর, উপকূলীয় এলাকা ইত্যাদি) কৃষি ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

ড়            কৃষি ঋণ বিতরণে আরও স্বচ্ছতা আনতে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রকাশ্যে কৃষি ঋণ বিতরণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজনে স্থানীয় হাটের দিন সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখার কর্মকর্তারা ক্যাম্প করে কৃষি ঋণ সংক্রান্ত তথ্য প্রচার ও ঋণ বিতরণ করতে পারেন।

ড়            প্রকৃত কৃষকরাই যাতে সময়মত প্রয়োজনীয় পরিমাণ কৃষি ঋণ পান, কৃষি ঋণ পেতে যাতে কোনো হয়রানির শিকার হতে না হয় এবং কৃষি ঋণের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা যাতে পুরোপুরি অর্জন করা সম্ভব হয় সে জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংকসমূহকে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

ড়            প্রকৃত ক্ষুদ্র, প্রান্তিক কৃষক ও বর্গাচাষিদেরকে সহজ পদ্ধতিতে একক/গ্রুপ ভিত্তিতে কৃষি ঋণ দিতে হবে।

ড়            কৃষক পর্যায়ে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে গুদামজাতকৃত কৃষি পণ্যের বিপরীতে শস্য গুদামজাত ও বাজারজাতকরণ খাতে প্রকৃত কৃষকদেরকে ঋণ প্রদান করতে হবে।

ড়            সফল কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরিমাণ কৃষি ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে যাতে তাদের অনুসরণ করে অন্য কৃষকরাও উৎসাহিত হয়।

ড়            ডাল, তৈলবীজ ও মসলা জাতীয় ফসল ও ভুট্টা চাষে সরকার প্রদত্ত সুদ ক্ষতির বিপরীতে ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলোর সুষম অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এবং একই সাথে বেসরকারি ও বিদেশী বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ যাতে এই কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারে সেজন্য কৃষক পর্যায়ে বিতরণকৃত ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সুদহার গত ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে ৪ শতাংশে নির্ধারণ করা হয়েছে। আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আনতে এসব ফসল উৎপাদনের জন্য কৃষকদের রেয়াতি সুদহারে ঋণ প্রদান করতে হবে। ব্যাংকসমূহ যাতে দ্রুত ভর্তুকি সুবিধা পায় এজন্য ভর্তুকি প্রাপ্তির ব্যবস্থা সহজীকরণ করা হয়েছে।

ড়            একজন কৃষক কৃষির অপর কোনো খাতে ঋণ গ্রহণ করে খেলাপি না হলে একই কৃষককে ডাল, তৈলবীজ, মসলা জাতীয় ফসল এবং ভুট্টা চাষ খাতে রেয়াতি ৪ শতাংশ সুদহারে ঋণ দেওয়া যাবে।

ড়            কৃষির সহায়ক খাত হিসেবে সেচ যন্ত্রপাতি ও কৃষি যন্ত্রপাতিতেও ব্যবহারকারী পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ঋণ সরবরাহ করতে হবে।

ড়            সোলার হোম সিস্টেম এবং সৌরশক্তি চালিত সেচ পাম্প স্থাপন খাতে ঋণ প্রদান করতে হবে।

ড়            কৃষি এবং এর সহায়ক খাতের পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতিসঞ্চার করতে নানাবিধ আত্ম-কর্মসংস্থানমূলক বা আয়-উৎসারী কর্মকা-ে একক/দলীয় ভিত্তিতে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে ।                                             

ড়            বিদেশী ব্যাংকগুলো ও অনেক বেসরকারি ব্যাংক শাখা স্বল্পতার

ব্যাংকগুলো কৃষি ও পল্লী ঋণের আবেদনকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড-এর ভিত্তিতে প্রকৃত কৃষক সনাক্ত করবে। কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ডের বিপরীতে মাত্র ১০ টাকা জমা গ্রহণপূর্বক খোলা একাউন্টধারী কৃষকদের ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে  শুধুমাত্র পাশবই-এর ভিত্তিতেই প্রকৃত কৃষক সনাক্ত করা যেতে পারে। জাতীয় পরিচয়পত্র আছে কিন্তু কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড নেই সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা স্থানীয় স্কুল/কলেজের প্রধান শিক্ষক অথবা ব্যাংকের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির দেওয়া প্রত্যয়নপত্রও প্রকৃত কৃষক সনাক্তকরণের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।

কৃষি কাজে সরাসরি নিয়োজিত প্রকৃত কৃষকগণ কৃষি ঋণ প্রাপ্তির জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন পল্লী অঞ্চলে আয় উৎসারী কর্মকা- জড়িতরাও কৃষি পল্লী ঋণের সংশ্লিষ্ট খাতে ঋণ সুবিধা পেতে পারেন তবে, সাধারণভাবে খেলাপি ঋণ গ্রহীতাগণ নতুন ঋণ পাবার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না উল্লেখ্য, ক্ষুদ্র, প্রান্তিক কৃষক বর্গাচাষিসহ অন্যান্য কৃষকদেরকে সহজ পদ্ধতিতে একক/গ্রুপ ভিত্তিতে কৃষি ঋণ প্রদান করা যাবে

কৃষকদেরকে অধিক হারে ব্যাংকমুখী করতে কৃষি ঋণ, বিশেষত শস্য/ফসল ঋণের ক্ষেত্রে আবেদন প্রক্রিয়া যতদূর সম্ভব সহজ হওয়া বাঞ্ছনীয় বাংলাদেশের সাধারণ কৃষকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, ফরম পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সময়, ফরমে যাচিত তথ্যের ব্যবহার তথা উপযোগিতা ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনে ব্যাংকসমূহ কৃষি ঋণের, বিশেষ করে শস্য/ফসল ঋণের আবেদন ফরম সহজীকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করবে আবেদন ফরম পূরণসহ আনুষঙ্গিক কাজে যাতে কালক্ষেপণ না হয় সে জন্যে আবেদন ফরম গ্রহণের সময়ই গ্রাহককে এতদ্সংক্রান্ত সকল প্রকার নির্দেশনা প্রদান করতে হবে সহায়ক কোনো তথ্যের প্রয়োজন হলে একটি মাত্র বৈঠকেই সকল তথ্য গ্রাহককে জানাতে হবে কৃষি পল্লী ঋণের আবেদন ফরম সম্ভাব্য ঋণগ্রহীতা কৃষকদের জন্য আরো সহজলভ্য করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে

 

কৃষি পল্লী ঋণের আবেদন ফরম সম্ভাব্য ঋণ গ্রহীতা কৃষকদের জন্য আরো সহজলভ্য করার জন্য কৃষি ঋণের আবেদন ফর্মটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ওয়েবসাইটে আপলোডকরণ, পত্রিকায় প্রকাশকরণ এবং ওয়েবসাইটে আপলোডকৃত/পত্রিকায় প্রকাশিত নমুনা ফরম অনুযায়ী আগ্রহী কৃষককে কৃষি ঋণের জন্য আবেদন করতে উৎসাহ প্রদান করার নিমিত্তে তা প্রিন্ট ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে

এতদ্প্রেক্ষিতে, সকল ব্যাংকের ব্যবহারের জন্য অনুকরনীয় একটি কৃষি ঋণের (শষ্য ফসল ঋণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য) নমুনা আবেদনপত্রপরিশিষ্ট-সংযোজিত হলো উক্ত নমুনা আবেদনপত্র অনুযায়ী প্রত্যেক ব্যাংক নিজস্ব কৃষি ঋণের আবেদনপত্র প্রস্তুত করবে

সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখা নির্ধারিত ঋণ নিয়মাচার অনুযায়ী আবেদনকারীর বার্ষিক প্রয়োজনীয় ফসল ঋণ অন্যান্য ঋণ এককালীন মঞ্জুর করবে তবে, সংশ্লিষ্ট ফসল উৎপাদনের মৌসুম শুরু হবার অন্ততঃ ১৫ দিন পূর্বে ঋণ বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখাসমূহ কৃষকদের বার্ষিক ফসল উৎপাদন পরিকল্পনাসহ আবেদনপত্র গ্রহণ করবে প্রয়োজনবোধে, পরবর্র্তীতে কৃষকদের বার্ষিক উৎপাদন পরিকল্পনায় যুক্তিযুক্ত পরিবর্তনের সুযোগ দেয়া যাবে

 

গ্রাহকের আবেদনপত্রের প্রাপ্তি স্বীকার করতে হবে আবেদনপত্র প্রাপ্তির পর ঋণ মঞ্জুরি বিতরণের মধ্যে সময়ের ব্যবধান যৌক্তিকীকরণ এবং গ্রাহকের কোনো অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত নিস্পত্তির ব্যবস্থা করতে হবে বিশেষ করে শস্য ফসল চাষের জন্য ঋণের আবেদন দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি করতে হবে ক্ষেত্রে ঋণের আবেদন নিষ্পত্তিকরণের সময়সীমা হবে আবেদনপত্র জমার দিন হতে সর্বোচ্চ ১০ কর্মদিবস

বাতিলকৃত আবেদনপত্রগুলো বাতিলের কারণ উল্লেখপূর্বক একটি ফাইলে সংরক্ষণ করতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শন দল এবং স্ব- স্ব ব্যাংকের নিরীক্ষা দলের যাচাইয়ের জন্য ফাইলটি সংরক্ষণ করতে হবে

কৃষকের আবেদনের প্রেক্ষিতে মাত্র ১০ টাকা প্রাথমিক জমার বিনিময়ে হিসাব খোলা  যাবে ধরণের হিসাব পরিচালনার ক্ষেত্রে অনুচ্ছেদ .১৭ উল্লেখিত শর্তসমূহ পরিপালন করতে হবে এছাড়া, শস্য/ফসল ঋণ আবেদনপত্র প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে ব্যাংকসমূহ/ব্যাংকের সাথে পার্টনারশীপের ভিত্তিতে কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণকারী ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানসমূহ কর্তৃক আবেদনপত্র প্রক্রিয়াকরণ বাবদ কোনো ধরনের ফি/চার্জ ধার্য করা যাবে না

 

শস্য/ফসল ঋণ ( একর পর্যন্ত ) আবেদনপত্র প্রক্রিয়াকরণ এবং ঋণ মঞ্জুরির ক্ষেত্রে ব্যাংকসমূহ এবং ব্যাংকের সাথে পার্টনারশীপের ভিত্তিতে কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণকারী ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানসমূহ কর্তৃক নি¤œলিখিত চার্জ ডকুমেন্ট ব্যতীত অন্য কোন চার্জ ডকুমেন্ট গ্রহণ করতে পারবে না

ক্স            ডিপি নোট (১০ টাকা থেকে ৫০ টাকার স্ট্যাম্প/সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক)

ক্স            লেটার অব হাইপোথিকেশন (স্ট্যাম্প প্রয়োজন নেই)

ক্স            লেটার অব গ্যারান্টি ব্যক্তিগত (স্ট্যাম্প প্রয়োজন নেই)

ফসল উৎপাদনের জন্য একজন কৃষককে সর্বোচ্চ ১৫ বিঘা ( একর বা হেক্টর) জমি চাষাবাদের জন্য নিয়মাচারে নির্ধারিত হারে ঋণ প্রদান করা যাবে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বৃহদাকার জমিতে কৃষি ঋণের আবেদন ব্যাংকসমূহ তাদের প্রচলিত শর্তে বিবেচনা করতে পারবে

শুধুমাত্র শস্য/ফসল চাষের জন্য সর্বোচ্চ . লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বল্প মেয়াদি কৃষি ঋণের ক্ষেত্রে সিআইবি রিপোর্টিং সিআইবি ইনক্যোয়ারির প্রয়োজন পড়বে না তবে খেলাপি ঋণগ্রহীতা যাতে কৃষি ঋণ না পান সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঋণ বিতরণকারী ব্যাংককে নিশ্চিত হতে হবে

সাধারণভাবে একর পর্যন্ত জমিতে চাষাবাদের জন্য ফসল ঋণের ক্ষেত্রে শুধু সংশ্লিষ্ট ফসল দায়বন্ধন (ঈৎড়ঢ় ঐুঢ়ড়ঃযবপধঃরড়হ)-এর বিপরীতে ঋণ প্রদান করা যাবে তবে একর এর বেশি জমি চাষাবাদের জন্য ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে জামানত গ্রহণ করা/না করার বিষয়টি ব্যাংক/অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ নিজের প্রচলিত শর্তে ব্যাংক-গ্রাহক ¤পর্কের ভিত্তিতে নির্ধারণ করবে কৃষি পল্লী ঋণ কর্মসূচির আওতায় আয়-উৎসারী কর্মকান্ডে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে গ্রুপ/ব্যক্তিগত গ্যারান্টি গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে

লীড ব্যাংকপদ্ধতির আওতায় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখাসমূহ তাদের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ইউনিয়নসমূহে ফসলসহ কৃষির বিভিন্ন খাতে ঋণ প্রদান করবে তবে, অন্য ব্যাংক শাখার নামে বরাদ্দকৃত পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের কোন আগ্রহী আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট শাখার অনাপত্তিপত্র দাখিল সাপেক্ষে ঋণ প্রদান করা যাবে এজন্য পার্শ¦বর্তী ব্যাংক শাখাসমূহের মধ্যে ঋণ গ্রহীতাদের তালিকা বিনিময় করতে হবে এছাড়া, বর্তমানে বেসরকারি বিদেশী ব্যাংকসহ বাংলাদেশে কার্যরত সকল তফসিলী ব্যাংকের জন্য কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণ বাধ্যতামূলক হওয়ায় লীড ব্যাংক পদ্ধতির আওতায় যে ইউনিয়ন যে ব্যাংক শাখার অনুকূলে বরাদ্দকৃত সেই ব্যাংক শাখা হতে অনাপত্তিপত্র নিয়ে উক্ত এলাকায় বেসরকারি বিদেশি ব্যাংকসমূহ কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণ করবে

কৃষি ঋণ কর্মসূচির আওতায় ঋণ প্রদানের জন্যপাশ বইআবশ্যক এবং এতদ্সংক্রান্ত বিদ্যমান সকল নিয়মকানুন যথাযথভাবে পালন করতে হবে নতুন ঋণ গ্রহীতাদের ক্ষেত্রে অবশ্যই পাশ বই ইস্যুর মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করতে হবে উল্লেখ থাকে যে, পাশ বইয়ের বিকল্প হিসেবে ব্যাংক স্টেটমেন্ট গ্রহণযোগ্য হবে

ব্যাংক শাখা কর্তৃক যথাসময়ে সুষ্ঠুভাবে ঋণ বিতরণ, তদারকি আদায় কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে একটি ফসল উৎপাদন পঞ্জিকা পরিশিষ্টতে সন্নিবেশিত তবে সংশ্লিষ্ট ফসলের জন্য ঋণ বিতরণকাল পরিশোধসূচি স্থানীয় অবস্থার প্রেক্ষিতে ব্যাংকসমূহ নিজেরাই পরিবর্তন করতে পারবে অঞ্চলভেদে শস্য বপন/রোপণের আদর্শ সময়কালের তারতম্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে শস্য বপন/রোপণ বিলম্বিত হলে বা পুনঃরোপণের প্রয়োজন হলে তার জন্য যৌক্তিক সময় পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করা যাবে

যে সব অঞ্চলে মূল ফসলের পাশাপাশি একই সময়ে একই জমিতে অন্য একটি সাথী ফসল উৎপাদন সম্ভব সে এলাকায় আগ্রহী কৃষকদেরকে মূল ফসলের জন্য প্রদত্ত ঋণের সাথে সাথী ফসল চাষের জন্য অতিরিক্ত ঋণ প্রদান করা যাবে জন্য পরিশিষ্টতে সাথী ফসলের ঋণ নিয়মাচার অনুসরণযোগ্য উক্ত পরিশিষ্টে উল্লেখ নেই এমন মিশ্র ফসল/সাথী ফসল/রিলে চাষের ক্ষেত্রে স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার সাথে পরামর্শক্রমে ব্যাংক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে

দেশকে খাদ্য উৎপাদনে দ্রুত স্বয়ম্ভর করা এবং জনগণের জন্য সুষম পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে আলু, ডাল, তৈলবীজজাত খাদ্য, ভুট্টা ইত্যাদির বহুমুখী ব্যবহার জনগণের মধ্যে জনপ্রিয় করার জন্যশস্য বহুমুখীকরণ কর্মসূচির’’ মাধ্যমে উক্ত ফসলসমূহের উৎপাদন বৃদ্ধি করা একান্ত প্রয়োজন ব্যাংক/অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের সাধারণ ঋণ কার্যক্রমের পাশাপাশি উক্ত লাভজনক ফসলসমূহে ঋণ প্রদানে অধিকতর গুরুত্ব আরোপ করবে

অঞ্চলভিত্তিক ফসল উৎপাদন, ফসলের ধরণ অর্থাৎ যে এলাকায় যে ফসল ভালো উৎপাদন হয় সেগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে এরিয়া এ্যাপ্রোচ পদ্ধতিতে বাস্তবভিত্তিক কৃষি ঋণ বিতরণ করতে হবে যে সকল এলাকায় পর্যাপ্ত শাক-সবজি, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, ডালজাতীয় শস্য, কলা, বাউকুল, স্ট্রবেরী, পাম, কমলা, আগর, পান-বরজ, মরিচ, আলু ইত্যাদি ফসল উৎপাদন হয়, সে সকল এলাকায় ঐসব ফসলের জন্য পর্যাপ্ত ঋণ বিতরণ করতে হবে বিষয়ে প্রয়োজনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে সংক্রান্ত তালিকা সংগ্রহপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে তাছাড়া সংশ্লিষ্ট এলাকায় বসবাসের মাধ্যমে অর্জিত প্রত্যক্ষ জ্ঞান অভিজ্ঞতাকেও ক্ষেত্রে কাজে লাগাতে হবে

কৃষির প্রধান (পড়ৎব) ৩টি খাতে (যথা-শস্য, মৎস্য প্রাণিসম্পদ) অন্যান্য খাতের চেয়ে ঋণ বিতরণে অগ্রাধিকার দিতে হবে

প্রকৃত ক্ষুদ্র কৃষক এবং বর্গাচাষিরা যাতে সহজে এবং সময়মত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় কৃষি ঋণ বিশেষ করে শস্য ফসল ঋণ পান তা নিশ্চিত করার জন্য যতদূর সম্ভব ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, শিক্ষক এবং অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে কৃষি ঋণ বিতরণ করতে হবে প্রয়োজনে স্থানীয় হাটের দিন সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখার কর্মকর্তারা ক্যাম্প করে কৃষি ঋণ সংক্রান্ত তথ্য প্রচার ঋণ বিতরণ করতে পারেন 

ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশনের অংশ হিসেবে কৃষকদের অনুকূলে বিভিন্ন ব্যাংকে ১০ টাকায় খোলা হিসাবের মাধ্যমে ভর্তুকি জমা ছাড়াও ঋণ প্রদান, সঞ্চয় জমা উত্তোলন, রেমিট্যান্স জমা ইত্যাদি ব্যাংকিং কার্যক্রম উৎসাহিত করতে নি¤œাক্ত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করা হয়েছে

 

ক্স            কৃষি ঋণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়াতে যে সকল কৃষকের ধরনের হিসাব রয়েছে তাদেরকে বিশেষ ব্যতিক্রম ছাড়া এসব হিসাবের মাধ্যমে কৃষি ঋণ বিতরণ করতে হবে

ক্স            হিসাবসমূহের লেনদেন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এসব হিসাবের ওপর সুদহার সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবের চেয়ে - শতাংশ বেশি হারে দেয়ার বিষয়টি ব্যাংকগুলো বিবেচনা করবে

ক্স            সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর প্রধান কার্যালয় তাদের শাখাগুলোর প্রধানগণকে কৃষকের এসব হিসাব সচল রাখার বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করবে

ক্স            বিপুল পরিমাণ হিসাব সচল রাখার জন্য কৃষকের ফসল বিক্রির টাকা বা তাদের গচ্ছিত টাকা এসব হিসাবে জমা, রেমিট্যান্স আদান-প্রদান ইত্যাদি স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে তাদের উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের ঁহ-ঃধঢ়ঢ়বফ ংধারহমং সংগ্রহ করতে পারে

ক্স            ব্যাংক শাখাগুলো ধরনের হিসাবে রক্ষিত সঞ্চয়ের ৯০ শতাংশ পর্যন্ত স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে

ক্স            হিসাবগুলোতে ন্যূনতম ব্যালেন্স রাখার কোন বাধ্যবাধকতা এবং কোনরূপ চার্জ বা ফি আরোপ করা যাবে না

ক্স            ধরনের হিসাবে লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্থিতির ক্ষেত্রে আবগারী শুল্ক/লেভি কর্তন রহিত করা হয়েছে

ক্স            কৃষকের হিসাবগুলোকে কখনোই ইনঅপারেটিভ বা ডরমেন্ট করা যাবে না

ক্স            কৃষকদের শিক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদেরকে চেকের বদলে নগদ উত্তোলন ভাউচার দেয়া যাবে তবে, যে সকল কৃষক চেক বই চায় তাদেরকে চেক বই দেয়া যাবে

ক্স            ১০ টাকার হিসাবগুলো সচল রাখার মাধ্যমে গ্রামীন অর্থনৈতিক কর্মকান্ডকে অধিকতর গতিশীল করার উদ্দেশ্যে তাদেরকে সহজতর শর্তে ঋণ প্রদানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব উৎস থেকে ২০০.০০ কোটি টাকার একটি আবর্তনশীল পুনঃঅর্থায়ন তহবিল (জবাড়ষারহম জবভরহধহপব ঋঁহফ) গঠন করেছে

 

উল্লেখ্য, সময়মত সরকারের দেয়া ভর্তুকি জমা ছাড়াও স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে দশ টাকায় খোলা কৃষক হিসাবগুলো কিভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে বিবরণী দাখিল করছে, যা অব্যাহত থাকবে

Krishiloan APP available now.

Google Play Store Apple Store

Secure By

comodo SSL