বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিমালা

কৃষি ঋণ বিতরণের অবিরাম প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য বছর মেয়াদি একটি আবর্তনশীল শস্য ঋণসীমা পদ্ধতি (জবাড়ষারহম পৎড়ঢ় পৎবফরঃ ষরসরঃ ংুংঃবস) প্রচলন করা হয়েছে অবিরাম ফসল উৎপাদনের সাথে সম্পৃক্ত কৃষকগণ পদ্ধতির আওতায় ঋণ সুবিধা পাবেন এই ঋণ বিতরণের জন্য ইতোপূর্বে বিতরণকৃত সকল শস্য ঋণের সমুদয় সুদাসল আদায় করে পুনঃডকুমেন্টেশন ব্যতিরেকেই ঋণ নবায়নপূর্বক পুনরায় ঋণ মঞ্জুরি বিতরণ করা যাবে দলিলাদি সম্পাদন যথাসম্ভব সহজীকরণ করতে হবে ঋণ মঞ্জুরির ক্ষেত্রে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট শাখা ব্যবস্থাপকদের নিকট ক্ষমতা অর্পণ (চড়বিৎ ফবষবমধঃব) করবে ঋণ মঞ্জুরির পর উৎপাদন পরিকল্পনা পরিবর্তন করতে হলে এবং ঋণের চাহিদা বৃদ্ধি পেলে কৃষকগণ পুনরায় ব্যাংকের নিকট আবেদন করতে পারবেন  ঋণের জামানত, ঋণ সীমা, সুদের হার ইত্যাদি সম্বলিত স্কীম কৃষি ঋণ নীতিমালার আলোকে ব্যাংকসমূহ নিজেরাই প্রণয়ন করবে

উৎপাদনকারী কৃষক এবং বৃহদাকারে কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে চুক্তিবদ্ধ উৎপাদন বা কন্ট্রাক্ট ফার্মিং ব্যবস্থা বাজারজাতকরণের খরচ কমিয়ে আনার মাধ্যমে কৃষকদেরকে তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য (ভধরৎ ঢ়ৎরপব) পেতে ভূমিকা রাখতে পারে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, রপ্তানি এবং বাড়তি ভোগ চাহিদা সৃষ্টি হওয়ার কারণে কিছু কিছু কৃষি পণ্যের ক্ষেত্রে কন্ট্রাক্ট ফার্মিং ইতোমধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে গুঁড়া মসলা, বোতলজাত তেল, জুস, চিপস, চানাচুর, পোলট্রি ফিড ইত্যাদি শিল্পের সাথে জড়িত উদ্যোক্তাগণকে গুণগত মান ঠিক রেখে সময়মত প্রয়োজনীয় পরিমাণ কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে কৃষকদের সাথে চুক্তিবদ্ধ উৎপাদন ব্যবস্থায় ব্যাংক ঋণ প্রদান করা যাবে

চুক্তিবদ্ধ উৎপাদন ব্যবস্থার আওতায় প্রকৃত কৃষকের সঙ্গে একক বা গ্রুপ ভিত্তিতে ক্রেতার একটি বৈধ চুক্তি (৩০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল ষ্টাম্প পেপারে সম্পাদিত) সম্পাদন করতে হবে চুক্তিতে নি¤œাক্ত বিষয় অবশ্যই উল্লেখ থাকতে হবে

 

ক্স            চুক্তিটি অবশ্যই কৃষি পণ্য উৎপাদনের পূর্বে সম্পাদিত হতে হবে গ্রুপ ভিত্তিক চুক্তি সম্পাদনকালে একই ধরণের পণ্য উৎপাদনকারী কৃষকের সহিত আলাদাভাবে চুক্তি সম্পাদন করতে হবে অর্থাৎ একই চুক্তির আওতায় একাধিক পণ্য উৎপাদনকারী কৃষকের সহিত চুক্তি করা যাবে না চুক্তিতে মেয়াদকাল, জমির পরিমাণ, তফসীল, উৎপাদিত পণ্যের বিবরণ, পণ্যের গুণগতমান, চাষ পদ্ধতি, শস্য সরবরাহ ব্যবস্থা, পণ্যের মূল্য, অর্থ পরিশোধ পদ্ধতি, বীমা ব্যবস্থা (শস্য বীমা চালু হওয়া সাপেক্ষে) ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ থাকতে হবে

ক্স            ধরনের চুক্তিতে কৃষককে কৃষি পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে যেসব সহযোগিতা প্রদান করা হবে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে অর্থাৎ যদি কৃষকের অনুকূলে ঋণ প্রদান করা হয় তাহলে ঋণের পরিমাণ, ঋণের সুদের হার, ঋণ সমন্বয় পদ্ধতি ইত্যাদি উল্লেখ থাকতে হবে এছাড়া উপকরণ (যেমন-বীজ, সার, কীটনাশক ইত্যাদি) সহায়তার ক্ষেত্রে উপকরণের নাম, পরিমাণ, উপকরণের মূল্য এবং মূল্য কিভাবে ঋণ পরিশোধের সাথে সমন্বিত হবে তা উল্লেখ করতে হবে

ক্স            কৃষকের উৎপাদিত পণ্য চুক্তিতে উল্লিখিত গুণাগুণ অনুযায়ী হলে/না হলে পণ্যের বিক্রয়মূল্য কিভাবে নির্ধারিত হবে, কৃষক যদি উক্ত উৎপাদিত পণ্য তৃতীয় পক্ষের নিকট বিক্রয় করে সেক্ষেত্রে কৃষকের অনুকূলে প্রদত্ত ঋণ উপকরণ সহায়তা কিভাবে সমন্বিত হবে তা চুক্তিতে উল্লেখ থাকতে হবে

ক্স            ঋণ এবং উপকরণ সহায়তা ব্যতীত অন্যান্য সহায়তা যেমন প্রশিক্ষণ, উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের সুবিধা প্রদান ইত্যাদি প্রদান করা হলে তা বিনামূল্যে কিনা অথবা মূল্য নির্ধারণ করা হলে কি পরিমাণ তা চুক্তিতে উল্লেখ করতে হবে  

ক্স            প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফসল নষ্ট হলে ক্ষতিপূরণ বা প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা হিসেবে কৃষকের অনুকূলে নির্দিষ্ট শর্ত উল্লেখ করতে হবে

ক্স            রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ এন্ড ফার্মস কর্তৃক রেজিস্ট্রিকৃত কোম্পানী হতে হবে

ক্স            কৃষি পণ্য সংরক্ষণ, বিপণন প্রক্রিয়াজাতকরণে পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা সম্পন্ন হতে হবে

ক্স            মাঠ পর্যায়ে কৃষকের সঙ্গে কাজ করার বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকতে হবে

ক্স            কৃষিভিত্তিক শিল্পোদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে কৃষি পণ্য উৎপাদনকারী কৃষকের সঙ্গে একক বা গ্রুপ ভিত্তিতে সম্পাদিত চুক্তির একটি কপি বাংলাদেশ ব্যাংককে সরবরাহ করতে হবে এবং ধরনের প্রতিটি ঋণ প্রদানের পূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মতি অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে

ক্স            কন্ট্রাক্ট ফার্মিং এর আওতায় কৃষকের সহিত গ্রুপ ভিত্তিতে চুক্তি সম্পাদন করলে সম্পাদিত চুক্তির সহিত কৃষকের তালিকা অত্র বিভাগে সরবরাহ করতে হবে তালিকায় কৃষকের নাম, ঠিকানা মোবাইল নম্বর অবশ্যই উল্লেখ থাকতে হবে

ক্স            কন্ট্রাক্ট ফার্মিং-এর আওতায় প্রদত্ত ঋণের ক্ষেত্রে কৃষক পর্যায়ে প্রকৃত সুদহার (ৎবফঁপরহম নধষধহপব পদ্ধতিতে) নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক কৃষি ঋণের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা প্রযোজ্য হবে এবং উক্ত সুদহারের অতিরিক্ত কোন চার্জ আরোপ করা যাবে না

ক্স            উপকারভোগী কৃষকদের প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী হিসাব বিবরণী সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সংরক্ষণ করতে হবে এবং চাহিদামত অর্থায়নকারী ব্যাংককে তা সরবরাহ করতে হবে

ক্স            কন্ট্রাক্ট ফার্মিং এর আওতায় কৃষি পল্লী ঋণ নীতিমালায় উল্লিখিত ফসলসমূহের ঋণ নিয়মাচার অনুসরণপূর্বক ঋণ প্রদান করতে হবে এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ফসল চাষে একর প্রতি ঋণসীমা অনুসরণ করতে হবে

ক্স            কন্ট্রাক্ট ফার্মিং এর আওতায় কৃষি পল্লী ঋণ নীতিমালায় উল্লিখিত খাত/উপখাত সমূহের মধ্যে কেবলমাত্র ফসল উৎপাদন, বীজ উৎপাদন, মৎস্য চাষ এবং প্রাণিসম্পদ খাতের আওতায় কেবলমাত্র দুগ্ধ উৎপাদন খাতে ঋণ প্রদান করা যাবে

প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, কন্ট্রাক্ট ফার্মিং এর আওতায় প্রদত্ত ঋণসমূহের সদ্ব্যবহার যাচাইকল্পে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনবোধে সরেজমিন পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করবে এছাড়া ব্যাংকসমূহ নিজেরাও ঋণ বিতরণের পর সরেজমিন পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা পূর্বক উক্ত পরিদর্শন প্রতিবেদনের একটি কপি বাংলাদেশ ব্যাংকে সরবরাহ করবে প্রেরিতব্য প্রতিবেদনে সকল কৃষকের নামের তালিকা, জমির পরিমাণ, কৃষকওয়ারী ঋণের পরিমাণ, কৃষকের অনুকূলে উপকরণ সহায়তার ক্ষেত্রে উপকরণের মূল্য ইত্যাদি উল্লেখ থাকতে হবে কৃষক পর্যায়ের তথ্যাদি সরবরাহে ব্যর্থ হলে উক্ত ঋণ কৃষি ঋণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে না

কন্ট্রাক্ট ফার্মিং এর আওতায় প্রদত্ত ঋণসমূহের বিস্তারিত বিবরণী ব্যাংকসমূহ ইতিপূর্বে প্রদত্ত ছক মোতাবেক প্রতি ত্রৈমাসিক অন্তর কৃষি ঋণ বিভাগ বরাবর প্রেরণ করবে

বিগত ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে বেসরকারি বিদেশী বাণিজ্যিক ব্যাংকসহ বাংলাদেশে কার্যরত সকল তফসিলী ব্যাংককে কৃষি পল্লী ঋণ কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা হয় বেসরকারি বিদেশী বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের মধ্যে যে সকল ব্যাংকের পল্লী অঞ্চলে শাখার সংখ্যা অপ্রতুল তারা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)-এর অনুমোদনপ্রাপ্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান (এমএফআই)-এর সাথে পার্টনারশিপের ভিত্তিতে কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারে সে ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে নি¤œরূপ কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে

 

) এমআরএ অনুমোদনপ্রাপ্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সাথে পার্টনারশিপের মাধ্যমে কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণকারী সংশ্লিষ্ট ব্যাংককেই গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানের সাথে পার্টনারশিপের মাধ্যমে কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণকারী উভয় ধরণের ব্যাংকের ক্ষেত্রেই রীতি প্রযোজ্য হবে লক্ষ্যে কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক এবং ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট কর্ম পরিকল্পনা এবং মনিটরিং পদ্ধতি থাকতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংককেই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় তথ্য/বিবরণী বাংলাদেশ ব্যাংককে সরবরাহ করতে হবে

) এমএফআই হতে ঋণের পরিমাণ, গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সম্ভাব্য আকার এবং ঋণ গ্রহীতার সংখ্যা, মেয়াদকাল, ব্যবহার (খাত-উপখাত), কৃষক/গ্রাহক পর্যায়ে প্রযোজ্য সুদহার, প্রকল্প এলাকা (জেলা, উপজেলা) ইত্যাদির উল্লেখসহ একটি সুনির্দিষ্ট ঋণ প্রস্তাবনার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক তাদেরকে অর্থায়নের বিষয়ে বিবেচনা করবে এবং সংশ্লিষ্ট মঞ্জুরিপত্র/চুক্তিপত্রে ব্যাপারে সুস্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে

) সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সাথে পার্টনারশিপের ভিত্তিতে কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে প্রথমবার অর্থ ছাড়ের আবেদনের সময় অর্থায়ন সংশ্লিষ্ট তথ্য যথা-ঋণ গ্রহীতার সংখ্যা, মেয়াদকাল, ব্যবহার (খাত-উপখাত), কৃষক/গ্রাহক পর্যায়ে প্রযোজ্য সুদহার, প্রকল্প এলাকা (জেলা, উপজেলা) ইত্যাদির সমন্বিত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে সরবরাহ করবে এবং পরবর্তীতে প্রতিবার পুনরায় অর্থ ছাড়ের আবেদনের ক্ষেত্রে পূর্বে গৃহীত অর্থায়ন প্রকৃতই কৃষি পল্লী ঋণ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়েছে মর্মে একটি প্রত্যয়নপত্র সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে সরবরাহ করবে

 

) ব্যাংক কর্তৃক ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানকে অর্থ ছাড় করার পর উক্ত অর্থ কৃষক/গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণ হবার পরই কেবলমাত্র তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট বিবেচিত হবে

 

) কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার ৬০ শতাংশ শস্য/ফসল খাতে বিতরণের ব্যাপারে যে নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে তা অর্জনে আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের সাথে পার্টনারশিপের মাধ্যমে কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণকারী ব্যাংকসমূহসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে সচেষ্ট থাকতে হবে ক্ষেত্রে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানকে দারিদ্র্য বিমোচন আয় উৎসারী কর্মকান্ডে ঋণ বিতরণের পাশাপাশি শস্য/ফসল খাতেও ঋণ বিতরণে অংশগ্রহণ করতে হবে

এমএফআই লিংকেজের আওতায় ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ঋণের ঙাবৎষধঢ়ঢ়রহম রোধকল্পে তথা  ঋণের সদ্ব্যবহার নিশ্চিতকরণের স্বার্থে এমএফআই নির্বাচনে ব্যাংকসমূহকে সতর্ক হতে হবে 

) ব্যাংক কর্তৃক এমএফআই লিংকেজে কৃষি ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে এমএফআই পর্যায়ে সুদের হারের সর্বোচ্চ সীমা ১০% এবং এমএফআইসমূহের জন্য ব্যাংক হতে গৃহীত কৃষি ঋণ গ্রাহক পর্যায়ে বিতরণের ক্ষেত্রে সুদের হারের সর্বোচ্চ সীমা অন্যান্য নীতিমালা এমআরএ কর্তৃক প্রদত্ত নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত হবে 

বিগত ০৯ ডিসেম্বর ২০১৩ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক এজেন্ট ব্যাংকিং গাইডলাইন্স প্রবর্তন করা হয়েছে অন্যান্য ব্যাংকিং সুবিধা প্রদানের পাশাপাশি দেশের সর্বত্র কৃষি ঋণ কার্যক্রম অধিকতর সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থা সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে সে প্রেক্ষিতে, যে সকল বাণিজ্যিক ব্যাংকে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু আছে এবং যে সকল বাণিজ্যিক ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম গ্রহণ করতে ইচ্ছুক সে সকল ব্যাংক চলমান কৃষি ঋণ বিতরণ পদ্ধতির পাশাপাশি এজেন্ট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে পারবে

এক্ষেত্রে, ব্যাংকসমূহকে নি¤œরূপ কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবেঃ

) বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রণীতগাইডলাইন্স অন এজেন্ট ব্যাংকিং ফর দা ব্যাংকস”- বর্ণিত নীতিমালা অনুসারে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক হতে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যাংকসমূহ এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থায় কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণ করতে পারবে এক্ষেত্রে, এজেন্ট বুথের মাধ্যমে ঋণের আবেদনপত্র গ্রহণ, প্রাথমিকভাবে যাচাই-বাছাইকরণ, কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণ এবং ঋণগ্রহীতার নিকট থেকে ঋণের কিস্তি আদায় করা যাবে তবে, ঋণের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ, ঋণ মঞ্জুরি এবং ঋণের প্রয়োজনীয় তদারকি ব্যাংক কর্তৃক সম্পন্ন করতে হবে

) বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি পল্লী ঋণ নীতিমালা কর্মসূচির আওতাভূক্ত খাত/উপখাতসমূহে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণ করা যাবে এক্ষেত্রে, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণসহ সামগ্রিকভাবে ব্যাংকের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার ৬০ শতাংশ শস্য/ফসল খাতে বিতরণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যাংককে সচেষ্ট থাকতে হবে

) এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে প্রতি অর্থবছরের শুরুতে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারীকৃত কৃষি পল্লী ঋণ নীতিমালা কর্মসূচিতে উল্লিখিত ঋণ নিয়মাচার এবং অন্যান্য নীতিমালা প্রযোজ্য হবে

) এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থায় কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি পল্লী ঋণ নীতিমালা কর্মসূচির আলোকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত সুদহারের সর্বোচ্চ সীমা প্রযোজ্য হবে ঋণ বিতরণে বাৎসরিক ভিত্তিতে অথবা ঋণের মেয়াদান্তে (যে সকল ঋণের মেয়াদ ১২ মাসের অধিক নয়) এবং কিস্তিতে আদায়ের ক্ষেত্রে ক্রমহ্রাসমান হার পদ্ধতিতে সুদ আরোপ করা যেতে পারে

) এজেন্টদের কমিশন বা সার্ভিস চার্জ বাবদ গ্রাহকের নিকট হতে নির্ধারিত সুদহারের অতিরিক্ত সর্বোচ্চ .৫০% সার্ভিস চার্জ (ভ্যাট সহ) আদায় করা যাবে এছাড়া, কোন উপায়ে গ্রাহকের নিকট হতে উক্ত সার্ভিস চার্জ ব্যতীত অন্য কোনরূপ ফি/চার্জ আদায় করা যাবে না এবং এই সার্ভিস চার্জ ব্যাংক কর্তৃক কর্তনের মাধ্যমে এজেন্টের হিসাবে প্রদান করতে হবে অর্থাৎ এজেন্ট সরাসরি ঋণগ্রহীতার নিকট থেকে কোন সার্ভিস চার্জ আদায় করতে পারবে না

) ঋণ গ্রহীতা কৃষক/গ্রাহকগণের প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী হিসাব বিবরণী সংশ্লিষ্ট এজেন্ট ব্যাংক কর্তৃক সংরক্ষণ করতে হবে এবং চাহিদামত সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে তা বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রেরণ করতে হবে

) এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থায় কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণের বিবরণী ত্রৈমাসিক ভিত্তিতেপরিশিষ্ট-মোতাবেক প্রতি ত্রৈমাসের তথ্যাদি পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃক বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগে দাখিল করতে হবে

) বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক যে কোন সময় ব্যাংকসমূহের এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থায় কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণ কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে

) কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণকারী সংশ্লিষ্ট ব্যাংককেই এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থায় কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে প্রকৃত কৃষক পর্যায়ে ঋণ পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারীকৃত কৃষি পল্লী ঋণ নীতিমালা কর্মসূচি অনুসারে এবং কৃষক পর্যায়ে ঋণ বিতরণ হবার পরই কেবলমাত্র তা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট বিবেচিত হবে

কৃষি ঋণ বিতরণ আদায় কার্যক্রম নিবিড় তদারকিধর্মী প্রায়ই অভিযোগ পাওয়া যায় যে, ব্যাংকগুলোতে জনবলের অভাবে কৃষি ঋণ বিতরণ আদায়ে বিঘœ ঘটছে; প্রদত্ত ঋণের সদ্ব্যবহার যাচাই করতেও সমস্যা হচ্ছে সমস্যা নিরসনে শাখা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক লোকবল নিয়োগের জন্য ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে

নিয়মিতভাবে নিয়োগ দেয়া সম্ভব না হলেকাজ নেই, বেতন নেই’ (হড় ড়িৎশ, হড় ঢ়ধু) ভিত্তিতে সাময়িকভাবে প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ করা যেতে পারে এছাড়া, যে সকল ব্যাংকের শাখা/জনবলের সীমাবদ্ধতা রয়েছে সে সকল ব্যাংক তাদের কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণ আদায় কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে গ্রাহক নির্বাচন, ঋণ প্রস্তাব তৈরিকরণ, মূল্যায়ন, মঞ্জুরি, ঋণ বিতরণ, মনিটরিং, আদায় ইত্যাদি সংক্রান্ত কাজে কোন কোম্পানী/প্রতিষ্ঠানকে এজেন্ট/ইন্টারমিডিয়ারি হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে

কৃষি ঋণ বিতরণ, আদায় এবং সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রমের নিবিড় পর্যবেক্ষণ তদারকি জোরদার করার লক্ষ্যে সকল তফসিলি ব্যাংক স্ব-স্ব প্রধান কার্যালয়ে কৃষি ঋণ সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য পৃথক কৃষি ঋণ বিভাগ/সেল গঠনপূর্বক প্রয়োজনীয় লোকবল পদায়ন এবং শাখা পর্যায়ে ন্যূনতম একজন কর্মকর্তাকে কৃষি ঋণ সংশ্লিষ্ট সকল কাজের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে দায়িত্ব প্রদান করবে

উক্ত বিভাগ/কর্মকর্তা কৃষি ঋণ সংশ্লিষ্ট সকল কাজ যেমনঃ গ্রাহক নির্বাচন, ঋণ প্রস্তাব তৈরিকরণ, মূল্যায়ন, মঞ্জুরি, তদারকি করা, ঋণ বিতরণ, আদায়, জেলা/উপজেলা কৃষি ঋণ কমিটির সভা অন্যান্য সভায় অংশগ্রহণ, কৃষকের সাথে সভায় অংশগ্রহণ, ঋণ খেলাপি হওয়ার পূর্বেই তদারকি জোরদারকরণ ইত্যাদি কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করবে

২০০৮-০৯ সাল থেকে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকের পাশাপাশি বেসরকারী ব্যাংকসমূহকেও  কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণের আওতায় আনা হয় তদ্প্রেক্ষিতে, যে সকল বেসরকারী বাণিজ্যিক ব্যাংকের পল্লী অঞ্চলে শাখার সংখ্যা অপ্রতুল তারাও যাতে আবশ্যিকভাবে কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণের কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ করতে পারে সে লক্ষ্যে তাদেরকে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)-এর অনুমোদনপ্রাপ্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান (এমএফআই)-এর সাথে পার্টনারশিপের ভিত্তিতে কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান করা হয়েছিল তবে, বিগত সাত বছরে পল্লী অঞ্চলে শাখার সংখ্যার বৃদ্ধি এবং প্রত্যেক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে কৃষি ঋণ সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য পৃথক কৃষি ঋণ বিভাগ/সেল গঠনপূর্বক প্রয়োজনীয় লোকবল পদায়ন শাখা পর্যায়ে ন্যূনতম একজন কর্মকর্তাকে কৃষি ঋণ সংশ্লিষ্ট সকল কাজের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে দায়িত্ব প্রদানের মাধ্যমে বেসরকারী ব্যাংকসমূহের নিজস্ব সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে তাই এখন থেকে কৃষি ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে এমএফআই লিংকেজ-এর ব্যবহার ক্রমান্বয়ে হ্রাস করার বিষয়ে ব্যাংকসমূহকে সচেষ্ট হতে হবে কারণ, ব্যাংকের নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ঋণ প্রদান করা হলে কৃষকেরা অপেক্ষাকৃত কম সুদে ঋণ গ্রহণ করতে পারে এবং ব্যাংকের জন্যও প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই মনিটরিং এর মাধ্যমে ঋণের গুণগত মান বজায় রাখা সহজ হয়

 

প্রেক্ষিতে, ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে কৃষকদের নিকট কৃষি পল্লী ঋণকে সহজলভ্য করার লক্ষ্যে দেশে কার্যরত সকল বাংলাদেশী বেসরকারী বাণিজ্যিক ব্যাংকের জন্য নির্ধারিত কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার ন্যূনতম ৩০% বাধ্যতামূলকভাবে নিজস¦ সক্ষমতায় তথা নিজস্ব নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিতরণ করতে হবে পাশাপাশি, প্রতিনিয়ত নিজস¦ সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে ব্যাংকসমূহকে সচেষ্ট হতে হবে

 

উল্লেখ্য, উক্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকসমূহের মোট কৃষি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলেও তাদেরকে অর্থবছর শেষে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক কোন লেটার অব এ্যাপ্রিসিয়েশন প্রদান করার বিষয়টি বিবেচনায় না আনাও যেতে পারে

কৃষকদেরকে কৃষি ঋণ বিষয়ে সচেতন করার লক্ষ্যে সকল তফসিলি ব্যাংকসমূহের প্রতিটি শাখায় কৃষি ঋণের সুদ হার, কৃষি ঋণের খাতসমূহের বিবরণ, ডাল, তৈলবীজ, মসলা জাতীয় ফসল ভুট্টা চাষের জন্য প্রদত্ত কৃষি ঋণের রেয়াতি সুদ হার এবং শাখার কৃষি ঋণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার যোগাযোগ নম্বর সম্বলিত ব্যনার-ফেস্টুন দৃষ্টিগোচর স্থানে প্রদর্শনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে

কৃষি পল্লী ঋণ কর্মসূচির আওতায় ফসল উৎপাদনসহ পল্লী অঞ্চলের বিভিন্ন খাতে ঋণ প্রদানের জন্য নি¤œাক্ত নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে

.০১ কর্মসূচির আওতাভুক্ত খাত/উপখাতসমূহ

 কৃষি পল্লী ঋণ কর্মসূচির আওতাভুক্ত খাত/উপ-খাতসমূহ নি¤œরূপ

ক্স            শস্য/ফসল (ধান, গম, ডাল, তৈলবীজ ইত্যাদিসহ পরিশিষ্ট- তে উল্লিখিত সকল ফসল);                                                                                     

ক্স            মৎস্য সম্পদ;

ক্স            প্রাণিসম্পদ;

ক্স            কৃষি যন্ত্রপাতি (ব্যবহারকারী পর্যায়ে প্রদত্ত ঋণ);

ক্স            সেচ যন্ত্রপাতি (ব্যবহারকারী পর্যায়ে প্রদত্ত ঋণ);

ক্স            বীজ উৎপাদন (পরিশিষ্ট- অনুযায়ী কৃষক পর্যায়ে প্রদানের জন্য)

ক্স            শস্যগুদাম বাজারজাতকরণ (শুধুমাত্র নিজস্ব উৎপাদিত ফসল গুদামজাতকরণ বাজারজাতকরণ);

ক্স            দারিদ্র্য বিমোচন আয় উৎসারী কর্মকা- (পল্লী অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠির আয় উৎসারী কর্মকা- প্রদত্ত ঋণ);

ক্স            অন্যান্য (ঋণ নিয়মাচারে উল্লিখিত হয়নি এমন অপ্রচলিত ফসল চাষ/কৃষিতে প্রদত্ত ঋণ)

 

স্বল্প মধ্য মেয়াদি ঋণের আওতায় বিভিন্ন খাতে সম্ভাব্য ফসল, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি পরিশিষ্টতে সন্নিবেশিত হলো উল্লেখ্য, কৃষিভিত্তিক শিল্প খাত কৃষি পল্লী ঋণের অন্তর্ভুক্ত নয়

কৃষি পল্লী ঋণ নীতিমালার সুষ্ঠু বাস্তবায়নে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হতে প্রাপ্ত বিভিন্ন ফসলভিত্তিক কৃষি উপকরণ বাবদ খরচের ভিত্তিতে প্রণীতঋণ নিয়মাচারঅনুযায়ী একর প্রতি নির্ধারিত ঋণের পরিমাণ, “শ্রেণীবিন্যাস/মিশ্র ফসল/সাথী ফসল/রিলে চাষভিত্তিক বার্ষিক উৎপাদন পরিকল্পনা”, ফসল বপন এবং সংগ্রহ মৌসুম অনুযায়ীফসল উৎপাদন পঞ্জিকা ঋণ পরিশোধসূচি” (যথাক্রমে পরিশিষ্ট-, ) ব্যাংক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের অনুসরণের জন্য এতদ্সঙ্গে সংযুক্ত করা

 

উল্লেখ্য, কৃষকদের প্রকৃত চাহিদার নিরিখে ঋণ নিয়মাচারে ফসলভিত্তিক নির্ধারিত ঋণের পরিমাণ ১০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি/হ্রাস করা যাবে নিজস্ব মালিকানাধীন জমিতে চাষাবাদের জন্য নিয়মাচারে বর্ণিত জমির ভাড়া প্রযোজ্য হবে না

ব্যাংকগুলো তাদের শাখাসমূহের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণের খাতওয়ারী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করবে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো বরাবরই কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণে উল্লেখযোগ্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণপূর্বক খাতে ঋণ বিতরণে মুখ্য ভূমিকা পালন করে আসছে কৃষি পল্লী ঋণের পরিমাণ আওতা বাড়াতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকসমূহের পাশাপাশি বেসরকারি বিদেশী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকেও উল্লেখযোগ্য মাত্রায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে   

 

কৃষি পল্লী খাতে বেসরকারী বিদেশী বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহের অংশগ্রহণের ফলে খাতে ঋণ অগ্রিম সরবরাহের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা খাতে কাঙ্খিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে বেসরকারি বিদেশী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ তা অর্জনের বিষয়ে নি¤œরূপ নীতিমালা অনুসরণ করতে হবে

 

) মাঠ পর্যায়ে কৃষি পল্লী ঋণের চাহিদা, খাতে ঋণ বিতরণে ব্যাংকের সামর্থ্য দক্ষতা, ব্যাংকের মোট ঋণ অগ্রিমের পরিমাণ এবং পূর্ববর্তী অর্থবছরে খাতে ব্যাংকের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বিবেচনায় নিয়ে ব্যাংকগুলো প্রত্যেক অর্থবছরের কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণের একটি যুক্তিসঙ্গত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করবে তবে এই লক্ষ্যমাত্রা পূর্ববর্তী অর্থবছরের ৩১ মার্চ তারিখের অবস্থাভিত্তিক মোট ঋণ অগ্রিমের . শতাংশের চেয়ে কম হবে না

) কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জনের স্বার্থে প্রত্যেক ব্যাংক মাসিক ভিত্তিতে স্ব-স্ব ব্যাংকের আনুপাতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অগ্রগতি শাখা/আঞ্চলিক অফিস/প্রধান কার্যালয় পর্যালোচনা করবে কোন ত্রৈমাসিকে আনুপাতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে, অনার্জিত অংশ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক পরবর্তী ত্রৈমাসিকে বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা করতে পারে

) অর্থবছর শেষে কোনো ব্যাংক কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে না পারলে অনার্জিত অংশের সমপরিমাণ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট বাধ্যতামূলকভাবে জমা রাখতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংক উক্ত জমাকৃত অর্থের ওপর কোনরূপ সুদ প্রদান করবে না

) কোনো ব্যাংক যদি পরবর্তী অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার সাথে পূর্ববর্তী অর্থবছর/বছরসমূহের লক্ষ্যমাত্রার অনার্জিত অংশ সম্পূর্ণ/আংশিক বিতরণ করতে পারে, সেক্ষেত্রে জমাকৃত/কর্তনকৃত অর্থ সম্পূর্ণ বা আনুপাতিক হারে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক-কে ফেরত প্রদান করা হবে

) উপর্যুক্ত প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো কর্তৃক বাংলাদেশ ব্যাংকে দাখিলকৃত কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণের বিবরণীর সঠিকতা যাচাই করে নেয়া হবে

কোনো ব্যাংকের ঋণ অগ্রিম প্রদানের ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের পৃথক নির্দেশনা থাকলে সেই ব্যাংকের বা বিশেষ কোনো কারণে কোনো নির্দিষ্ট ব্যাংকের ক্ষেত্রে অর্থ জমার উপরোক্ত বাধ্যবাধকতা শিথিল করা যেতে পারে

২০১৭-১৮ অর্থবছরের কৃষি পল্লী ঋণ কর্মসূচির অধীনে ব্যাংকগুলো কর্তৃক প্রাক্কলিত মোট লক্ষ্যমাত্রার ন্যূনতম ৬০ শতাংশ শস্য ফসল ঋণ খাতে বিতরণ করতে হবে

বর্তমানে মৎস্য চাষ একটি লাভজনক খাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি প্রাণিজ আমিষের ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে চিংড়ি চাষ মৎস্য চাষ সম্প্রসারণ একান্ত অপরিহার্য মাছের রেণু উৎপাদন, প্রায় অবলুপ্ত দেশী মাছ (কৈ, মাগুর শিং), রুই জাতীয় মাছ, মনোসেক্স তেলাপিয়া, পাঙ্গাস, পাবদা ইত্যাদি চাষ, ঘেরে বাগদা চিংড়ি চাষ ইত্যাদির জন্য ঋণ প্রদান করতে হবে সরকারের মৎস্য চাষ নীতিমালার আলোকে প্রাতিষ্ঠানিক উৎস থেকে ঋণ সরবরাহের উদ্দেশ্যে মৎস্য উৎপাদন পঞ্জিকা ঋণ নিয়মাচার (পরিশিষ্ট-) ব্যাংক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের অনুসরণের জন্য এতদ্সঙ্গে সংযুক্ত করা সংযুক্ত ঋণ নিয়মাচারে অন্তর্ভূক্ত নেই সেসকল মৎস্য চাষে  ব্যাংক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ নিজেরাই স্থানীয় পরিস্থিতিতে মৎস্য চাষের সম্ভাব্যতা যাচাই করবে এবং প্রয়োজনে স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে ঋণের পরিমাণ, বিতরণকাল, ঋণের মেয়াদ পরিশোধসূচি নির্ধারণ করবে এক্ষেত্রে প্রয়োজনবোধে মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত মাছ চাষের পরামর্শপত্র অনুসারে ঋণের পরিমাণ, বিতরণকাল, ঋণের মেয়াদ পরিশোধসূচি নির্ধারণ করা যাবে ইজারা পুকুরে মাছ চাষের ক্ষেত্রে পুকুর বন্ধকীর পরিবর্তে ইজারা মূল্যকে গুরুত্ব দিয়ে মৎস্য চাষ খাতে ঋণ প্রদান করা যেতে পারে

দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বসবাসরত উপকূলীয় মৎস্যজীবিদের মাছ ধরার ট্রলার, নৌকা, জাল অন্যান্য সরঞ্জামাদি ক্রয়/সংগ্রহের জন্য তাদের অনুকূলে অধিকতর সহজ শর্তে স্বল্প/দীর্ঘমেয়াদী ঋণ বিতরণে ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এছাড়া ছোট ছোট ব্যবসা, বিশেষ করে-মাছ ধরা, মৎস্য চাষ, শুঁটকী মাছ উৎপাদন এর সাথে জড়িতদের প্রয়োজন অনুযায়ী পুঁজি সরবরাহ করা যেতে পারে উপকূলীয় মৎস্যজীবিদেরকে প্রয়োজনে গ্রুপভিত্তিতে ঋণ সুবিধা প্রদান করা যেতে পারে

ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো জলাশয়/জলমহাল/হাওড়ে দলভিত্তিতে মৎস্য চাষের জন্য মৎস্যজীবিদের ঋণ প্রদান করতে পারবে সরকার কর্তৃক মৎস্য চাষের ওপর অধিক গুরুত¦ আরোপের প্রেক্ষিতে মৎস্য চাষের জন্য ঋণ প্রদান বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে বিষয়টি জনগণকে অবহিত করবে মৎস্যজীবিরা যাতে ঋণ প্রাপ্তির মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারেন সে বিষয়ে তাদের উপযোগী প্রোডাক্ট উদ্ভ¢াবন করে ঋণ বিতরণ করতে হবে

সাম্প্রতিক সময়ে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার কারণে খাঁচায় মাছ চাষ পদ্ধতি আমাদের দেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বিভিন্ন ধরনের জলাশয়ে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে উপযোগী আকারের খাঁচা স্থাপন করে অধিক ঘনত্বে বাণিজ্যিকভাবে মাছ উৎপাদনের প্রযুক্তি হলো খাঁচায় মাছ চাষ সম্প্রতি চাঁদপুর জেলার ডাকাতিয়া নদীতে থাইল্যান্ডের প্রযুক্তি অনুকরণে খাঁচায় মাছ চাষ সর্বসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জের হাওড় এলাকা এবং নাটোরের চলনবিলে খাঁচায় মাছ চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে 

 

মৎস্য সম্পদ খাতের উপখাত হিসেবেখাঁচায় মাছ চাষকর্মসূচিতে ব্যাংকগুলো ঋণ প্রদান করতে পারে এক্ষেত্রে স্থানীয় মৎস্য চাষি, মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে ঋণের পরিমাণ, বিতরণকাল, মেয়াদ, পরিশোধসূচি জামানত বিষয়ে ব্যাংকগুলো নিজেরাই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে

বাংলাদেশের উপকূলীয় মাৎস্য চাষ শুধুমাত্র চিংড়ি চাষে সীমাবদ্ধ রয়েছে তবে, উপকূলীয় অঞ্চলে সম্ভাবনাময় আরো অনেক মাৎস্য প্রজাতিকে একোয়াকালচার এর আওতায় এনে দেশের প্রোটিন ঘাটতি পূরণসহ রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব এক্ষেত্রে কাদামাটির কাঁকড়া চাষ, কাঁকড়া মোটাতাজাকরণ (পৎধন ভধঃঃবহরহম), ভেটকি বাটা জাতীয় মাছ চাষের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যেতে পারে ক্ষেত্রে বিনিয়োগ খুবই অল্প হওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে যথাযথ প্রশিক্ষণ মূলধনী  সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে যথাযথ উদ্যোগ নেয়া হলে সমুদ্রে অপ্রচলিত মাৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি করে দেশের রপ্তানি আয় বাড়ানো সম্ভব

 

উপকূলীয় এলাকার ব্যাংক শাখাসমূহ স্থানীয় মৎস্য চাষি মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে ঋণের পরিমাণ, বিতরণকাল, মেয়াদ, পরিশোধসূচি জামানত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণপূর্বক ঋণ প্রদান করতে পারে

বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে প্রাণিসম্পদ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কিন্তু বর্তমানে দেশে প্রয়োজনের তুলনায় মাংস দুগ্ধ সরবরাহের পরিমাণ অপ্রতুল প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের প্রাণিসম্পদ নীতিমালার বাস্তবায়ন উদ্দেশ্য অর্জনে ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রাণিসম্পদের প্রচলিত নি¤œœবর্ণিত খাত/উপখাতসমূহে ঋণ বিতরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের কৃষি পল্লী ঋণ কর্মসূচির অধীনে ব্যাংকগুলোর বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার ন্যূনতম ১০ শতাংশ প্রাণিসম্পদ খাতে বিতরণ করতে হবে

) হালের বলদ ক্রয়, দুগ্ধ খামার স্থাপন, ছাগল/ভেড়ার খামার স্থাপন, গরু মোটাতাজাকরণ ইত্যাদিতে ঋণ প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ব্যাংক গ্রহণ করবে

) গরুর পাশাপাশি মহিষ পালন একটি লাভজনক খাত গরুর মতো মহিষ হতেও দুধ মাংস পাওয়া যায় পাশাপাশি হালচাষ এবং গ্রামীণ পরিবহণেও মহিষের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে পরিবেশগত এবং প্রথাগত কারণে বাংলাদেশের চরাঞ্চলসহ যে সকল এলাকায় মহিষ পালন লাভজনক সে সকল এলাকায় মহিষ পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ঋণ প্রদান করা যেতে পারে

)           ব্যাংকের নিজস্ব প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত অফিসার বা একজন ভেটেরিনারী চিকিৎসক কর্তৃক সময়ে সময়ে গরু/ছাগলের খামার পরিদর্শনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে উক্ত পরিদর্শন প্রতিবেদনের আলোকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রাহকদের ব্যাংক শাখার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া যেতে পারে

উপর্যুক্ত খাতসমূহে ঋণ প্রদানের জন্য ঋণের পরিমাণ মেয়াদ নিরূপণ এবং পরিশোধসূচি প্রণয়নের ক্ষেত্রে ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই এবং প্রয়োজনবোধে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে

দেশের বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থান, পুষ্টি চাহিদা পূরণসহ গুঁড়াদুধ দুগ্ধজাত সামগ্রীর আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ার্থে দুগ্ধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন অতীব প্রয়োজন লক্ষ্যে গাভী ক্রয়, লালন-পালন এবং কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে সংকর জাতের গাভীপালনের জন্য বিদ্যমান ঋণ সুবিধার পাশাপাশি উপরোল্লিখিত খাতে অধিকতর ঋণ প্রবাহের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে সে প্রেক্ষিতে দুগ্ধ উৎপাদন কৃত্রিম প্রজনন খাতে (পাঁচ) বছর পর্যন্ত নবায়ন/আবর্তনযোগ্য (জবাড়ষারহম) ২০০.০০ (দুইশত) কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন স্কীম গঠন করা হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক এর সাথে স্বাক্ষরিত অংশগ্রহণ চুক্তিপত্রের (চধৎঃরপরঢ়ধঃরড়হ অমৎববসবহঃ) আওতায় বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক লিঃ, জনতা ব্যাংক লিঃ অগ্রণী ব্যাংক লিঃ, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক, কর্মসংস্থান ব্যাংক এবং বেসরকারী ব্যাংকগুলো স্কীমের আওতায় পুনঃঅর্থায়ন সুদ ভর্তুকি সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে  নবায়ন/আবর্তনযোগ্য (জবাড়ষারহম) স্কীমের মেয়াদ হবে (পাঁচ) বছর তবে, গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ হবে ঋণ গ্রহণের তারিখ হতে (তিন) বছর ব্যাংক/বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনঃঅর্থায়ন গ্রহণের তারিখ হতে অনধিক (তিন) বছরের মধ্যে আসল এবং প্রতি বছর শেষে সুদ পরিশোধ করবে স্কীমের আওতায় উল্লিখিত ব্যাংক/বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক হতে ব্যাংক রেটে (বর্তমানে %, যা পরিবর্তনশীল) পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাবে গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার হবে সর্বোচ্চ % ব্যাংক/বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিতরণকৃত ঋণের বিপরীতে সুদ ক্ষতি/ভর্তুকি বাবদ বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট অতিরিক্ত % দাবী করতে পারবে

ডিম মাংস সরবরাহের মাধ্যমে দেশের প্রোটিন ঘাটতি পূরণে পোলট্রি খাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ইতোমধ্যে নিজের একটি অবস্থান তৈরি করে নেয়া পোলট্রি শিল্পের ব্যাকওয়ার্ড এবং ফরওয়ার্ড লিঙ্কেজ কর্মকা- কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বর্তমানে দেশে ডিম মাংসের চাহিদার তুলনায় সরবরাহের পরিমাণ অপ্রতুল পোলট্রি খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে সরকারের প্রাণিসম্পদ নীতিমালার বাস্তবায়ন উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রাণিসম্পদের প্রচলিত নি¤œবর্ণিত খাত/উপখাতসমূহে ঋণ বিতরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে

 

) হাঁস-মুরগির খামার স্থাপন এবং হাঁস-মুরগির খাদ্য, টিকা, ঔষধপত্র ক্রয় ইত্যাদি খাতে ঋণ প্রদান করা যেতে পারে এছাড়া কোয়েল, খরগোশ, গিনিপিগ ইত্যাদির বিভিন্ন লাভজনক খামার স্থাপনের জন্য ঋণ প্রদান করা যেতে পারে পোলট্রি খাতে ঋণ প্রদানের কার্যক্রম একটি নির্দিষ্ট এলাকায় কেন্দ্রীভূত না রেখে ভৌগোলিক অবস্থান নির্বিশেষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খাতে ঋণ প্রদানের প্রচেষ্টা গ্রহণ করা যেতে পারে

) পরিবেশগত এবং প্রথাগত কারণে বাংলাদেশের বিল এবং জলা এলাকাসহ যে সকল এলাকায় পারিবারিক উদ্যোগে হাঁস পালন লাভজনক সে সকল এলাকায় হাঁস পালনের জন্য প্রয়োজনীয় ঋণ প্রদান করা যেতে পারে

) পোলট্রি বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যেতে পারে

 

উপর্যুক্ত খাতসমূহের মধ্যে ব্রয়লার এবং লেয়ার মুরগি পালনে ঋণ প্রদানের জন্য ঋণের পরিমাণ মেয়াদ নিরূপণ এবং পরিশোধসূচি (পরিশিষ্ট-) ব্যাংক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের অনুসরণের জন্য এতদ্সঙ্গে সংযুক্ত করা হলো অন্যান্য খাতসমূহে ঋণের পরিমাণ মেয়াদ নিরূপণ এবং পরিশোধসূচি নির্ধারণে ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরাই এবং প্রয়োজনবোধে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে

Krishiloan APP available now.

Google Play Store Apple Store

Secure By

comodo SSL