বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিমালা

দেশের বিভিন্ন এলাকায় পানির অভাবে এবং হালের বলদের স্বল্পতার কারণে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে প্রেক্ষিতে দেশে চাষাবাদ পদ্ধতি যান্ত্রিকীকরণের উদ্দেশ্যে এবং প্রাকৃতিক উৎস হতে প্রাপ্ত পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে সময়মত ফসল উৎপাদন নিশ্চিতকরণের জন্য গভীর/অগভীর/হস্তচালিত নলকূপ, ট্রেডল পাম্প ইত্যাদির জন্য ব্যবহারকারী পর্যায়ে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে 

 

বিজ্ঞানসম্মত চাষাবাদ পদ্ধতির মাধ্যমে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি যন্ত্রপাতি যেমন- ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, বারি সিডার (বীজ বপন যন্ত্র), বারি উইডার (আগাছা নিড়ানি যন্ত্র), অটোমেটিক সিডলিং নার্সারি মেশিন ইত্যাদি উপখাতে ব্যবহারকারী পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ঋণের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে এতদ্ভিন্ন সারের অপচয় রোধ, উৎপাদন খরচ হ্রাস এবং এর বিপরীতে উৎপাদন বৃদ্ধির স্বার্থে ব্যাংকসমূহ দানাদার/গুটি ইউরিয়া তৈরির মেশিন প্রস্তুতকারীদের ঋণ প্রদান বিবেচনা করতে পারবে এবং তেমন ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তাদের পরামর্শ গ্রহণ করতে পারে

 

প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, শুধুমাত্র ব্যবহারকারী পর্যায়ে সেচ যন্ত্রপাতি কৃষি যন্ত্রপাতি খাতে প্রদত্ত ঋণ কৃষি ঋণ হিসাবে গণ্য হবে

প্রাকৃতিক দূর্যোগ এবং অন্যান্য কারণে পাকা ফসল ঘরে উঠাতে দেরি হলে অনেক সময় কৃষকগণ ক্ষতির সম্মুখীন হন ফসল কাটা/মাড়াইয়ের যন্ত্র (ঐধৎাবংঃবৎ) সমস্যা মোকাবিলায় কৃষককে বহুলাংশে সাহায্য করতে পারে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এই ধরনের বেশ কিছু যন্ত্র উদ্ভাবন করেছে (যেমন-পাওয়ার থ্রেসার, পাওয়ার ইউনোনেয়ার ড্রায়ার ইত্যাদি) কৃষি যন্ত্র হিসেবে ফসল কাটা/মাড়াইয়ের যন্ত্র বাবদ কৃষি ঋণ বিতরণ করতে হবে কৃষকের স্বার্থে প্রত্যেক ব্যাংক হতে ফসল কাটা/মাড়াইয়ের যন্ত্র (ঐধৎাবংঃবৎ) খাতে ঋণ বিতরণের উদ্যোগ নিতে হবে

সেচযন্ত্র চালাতে সাধারণত বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়ে থাকে যে সকল এলাকায় বিদ্যুৎ নেই সেখানে সাধারণত ডিজেলচালিত সেচ যন্ত্র ব্যবহার করা হয়ে থাকে অথচ সৌরশক্তি ব্যবহার করেই সেচের কাজ করা সম্ভব শুকনো মৌসুমে, যখন প্রচুর রোদ ওঠে এবং ক্ষেতে শুষ্কতা/খরা দেখা দেয় তখনই সাধারণত সেচের প্রয়োজন পড়ে সেই সময়ে সৌরশক্তি চালিত সেচ যন্ত্রের মাধ্যমে জমিতে সেচ প্রদান করা সম্ভব বর্ষা মৌসুমে বা মেঘলা আবহাওয়ায় সেচের প্রয়োজন পড়েনা বললেই চলে সৌরশক্তি চালিত সেচ যন্ত্র প্রায় ২০ বছর ব্যবহার করা যায়, ফলে প্রাথমিক ব্যয় কিছুটা বেশি হলেও প্রকৃত অর্থে তা সাশ্রয়ী ব্যাংকগুলো ধরনের সেচ যন্ত্র ক্রয়ে কিছুটা দীর্ঘমেয়াদে কৃষি ঋণ প্রদান করতে পারে

কৃষি খাতে জ্বালানী সংকট মোকাবেলা নবায়নযোগ্য জ্বালানী ব্যবহারের প্রসারে লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে সৌর শক্তি ব্যবস্থার উপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে ধারাবাহিকতায় অনগ্রসর এবং বিদ্যুৎ সংযোগবিহীন এলাকায় ব্যক্তি পর্যায়ে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে সোলার হোম সিস্টেম, সোলার ইরিগেশন পাম্পিং সিস্টেম খাতে বিতরণকৃত ঋণসমূহ কৃষি ঋণ হিসেবে বিবেচিত হবে

সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্যান্য ক্ষেত্রের ন্যায় কৃষিক্ষেত্রেও ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তির ছোঁয়া পরিলক্ষিত হচ্ছে যা এদেশের সনাতন কৃষি ব্যবস্থাকে ক্রমান্বয়ে একটি আধুনিক কৃষি ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করছে এদেশে অমৎরপঁষঃঁৎধষ গবপযধহরুধঃরড়হ এর দ্রুত উন্নয়নের ফলে কৃষিকাজে সময় ফসল উভয়ের অপচয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন সম্ভব হয়েছে এক্ষেত্রে, সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের অনবদ্য প্রয়াস কৃষি-বান্ধব নীতিমালার রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারকে আরও প্রসারিত করতে বৃহৎ মাঝারি কৃষকের পাশাপাশি ক্ষুদ্র প্রান্তিক কৃষকদের মাঝেও কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে বদ্ধ পরিকর

বাংলাদেশের মোট শ্রমশক্তির ৪৫% কৃষিকাজে নিয়োজিত হলেও, মাত্র ৫২.৯১% কৃষকের নিজের জমি আছে যাদের মধ্যে ৮৪.৩৯% কৃষকই ক্ষুদ্র প্রান্তিক অর্থাৎ তাদের জমির মালিকানা .০৫-.৪৯ একর মাত্র গ্রামের এই ক্ষুদ্র প্রান্তিক চাষীদের বেশিরভাগই এত দরিদ্র যে, তাদের পক্ষে এককভাবে কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ের ব্যয়ভার বহন করা সম্ভব হয়ে ওঠে না এক্ষেত্রে, সাধারণত কিছু অর্থবান কৃষকেরা ব্যয়বহুল কৃষি যন্ত্রপাতিসমূহ ক্রয় করে নিজে ব্যবহার করে এবং নির্দিষ্ট ভাড়ার বিনিময়ে অন্যদের জমিতে ব্যবহার করতে দেয় তবে নিজস্ব অর্থায়নে  কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয় করতে পারে ধরনের কৃষকের সংখ্যা অপ্রতুল কারণে ব্যাংকগুলো কৃষি যন্ত্রপাতির জন্য প্রদত্ত কৃষিঋণ শুধুমাত্র ব্যবহারকারী পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না রেখে কৃষিকাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত সকল ব্যক্তিকে একক অথবা গ্রুপভিত্তিতে প্রদান করতে পারে যাতে তারা কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয় করে নিজের জমিতে ব্যবহার করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট ভাড়ার বিনিময়ে অন্যদের জমিতে ব্যবহার করে ঋণ পরিশোধে সক্ষম হতে পারে

প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, খাতে এক বা একাধিক কৃষক/পরোক্ষভাবে কৃষি কাজে জড়িত ব্যক্তি পর্যায়ে স্বল্প/দীর্ঘমেয়াদে একক অথবা গ্রুপভিত্তিতে প্রদত্ত সর্বোচ্চ ঋণের পরিমাণ নির্দিষ্ট যন্ত্রের বাজারমূল্যের অধিক হতে পারবে না তাছাড়া, কোন কৃষক/পরোক্ষভাবে কৃষি কাজে জড়িত ব্যক্তি একই ধরণের একটির বেশী যন্ত্র ক্রয়ের জন্য ঋণ সুবিধা পাবেন না এবং ঋণ প্রদানের বিষয়টি ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ, জলবায়ু পরিবর্তন জনিত সমস্যা, কৃষিখাতে সঠিক পরিকল্পনা যান্ত্রিকীকরণের অভাব, অপরিকল্পিতভাবে সার কীটনাশকের ব্যবহার প্রভৃতি প্রতিনিয়ত আমাদের কৃষিখাতকে হুমকির সম্মুখীন করে তুলছে কৃষিখাতে ব্যাপকভাবে রাসায়নিক সারের ব্যবহার সাময়িকভাবে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করলেও তা পর্যায়ক্রমে জমির উর্বরতা শক্তি ক্ষয় করছে, যা ভবিষ্যৎ কৃষির জন্য একটি দুঃসংবাদ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে সমস্যা উত্তরণের লক্ষ্যে কৃষিবিদ এবং বিজ্ঞানীরা পরিবেশ বান্ধব জৈব সার ব্যবহারের উপর গুরুত্বারোপ করছেন রাসায়নিক সারের পরিবর্তক হিসেবে কেঁচো কম্পোস্ট সার একটি ভাল, সস্তা এবং সহজলভ্য বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে কেঁচো কম্পোষ্ট  সার (ঠবৎসরপড়সঢ়ড়ংঃ) এক ধরণের জৈব সার, যা ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি মাটির উর্বরতা শক্তি অক্ষুন্ন রাখতে সহায়তা করে পচনশীল গাছ-গাছড়া গৃহপালিত প্রাণীর গোবরের মিশ্রণে কেঁচো ছেড়ে দিলে কেঁচো এই মিশ্রণ খেয়ে যে বিষ্ঠা ত্যাগ করে তা কেঁচো কম্পোস্ট সার হিসেবে পরিচিত কেঁচো কম্পোস্ট সার উৎপাদনকে জনপ্রিয় করতে খাতে ব্যাংক/অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পরিশিষ্টএর ঋণ নিয়মাচার অনুযায়ী ঋণ প্রদান করবে কেঁচো কম্পোস্ট সারের বাণিজ্যিক উৎপাদনকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে  খাতে ব্যাংকের অর্থায়নের বিপরীতে সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট হতে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা প্রদান করা হয়

শস্য/ফসল ওঠা/কাটার মৌসুমে কৃষি পণ্যের দাম অনেক সময় হঠাৎ কমে যায়, ফলে উৎপাদনকারী কৃষক ন্যায্যমূল্য হতে বঞ্চিত হন পক্ষান্তরে, মুনাফালোভী ব্যবসায়ী/ফড়িয়ারা লাভবান হয় অবস্থা এড়িয়ে কৃষক পর্যায়ে (সাধারণভাবে সর্বোচ্চ একর জমিতে) উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে গুদামজাতকৃত কৃষি পণ্যের বিপরীতে প্রকৃত কৃষককে ঋণ প্রদান করতে হবে, যাতে সুবিধামত সময়ে পণ্য বিক্রি করে উৎপাদনকারী কৃষক পণ্যের ন্যায্যমূল্য পেতে পারেন

 

সরকার/সরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন পরিত্যক্ত/অব্যবহৃত গুদাম প্রয়োজনে জেলা/উপজেলা কৃষিঋণ কমিটির উদ্যোগে সংস্কার করে স্থানীয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শস্য গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা হলে উক্ত গুদামে গুদামজাতকৃত শস্যের বিপরীতে শস্য গুদাম বাজারজাতকরণ খাতে ঋণ প্রদান করা যেতে পারে

এছাড়া, আলু আমাদের একটি অন্যতম প্রধান খাদ্য শস্য কিন্তু উৎপাদন মৌসুমে আলুর ব্যাপক উৎপাদনের ফলে দেশে বিদ্যমান সংরক্ষণাগারে উৎপাদিত আলুর এক তৃতীয়াংশ এর বেশী সংরক্ষণ করা সম্ভব হয় না মৌসুমে আলুর চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অধিক থাকার ফলে আলুর বাজার মূল্য হ্রাস পায় এবং পর্যাপ্ত সংরক্ষণাগারের অভাবে উৎপন্ন আলুর একটি বড় অংশ পঁচে নষ্ট হয়ে যায় এপ্রেক্ষিতে, গৃহপর্যায়ে স্বল্প খরচে যথাযথ প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত সময় পর্যন্ত আলু সংরক্ষণের লক্ষ্যে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সহায়তা পরামর্শ প্রদান করছে গৃহপর্যায়ে আলু সংরক্ষণাগার নির্মাণ করে ব্যবসায়িক ভিত্তিতে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে আগ্রহী কৃষকগণকে ব্যাংকসমূহ সহজ শর্তে স্বল্প সুদে ঋণ প্রদান করতে পারবে তবে, গৃহপর্যায়ে আলু সংরক্ষণাগার নির্মাণের প্রকৃত খরচ নির্ধারণে প্রয়োজনবোধে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সুপারিশ বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে

এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) কর্তৃক প্রদত্ত বর্ণনানুযায়ী উচ্চমূল্য ফসল বলতে একর প্রতি উৎপাদিত গতানুগতিক বোরো (শীতকালীন) ধানের তুলনায় অধিক লাভজনক এবং অধিক বাজার সম্ভাবনাময় ফসলকে বুঝায় উচ্চমূল্য ফসল বলতে সাধারণত ফলমূল, রকমারি ফুল, সৌন্দর্যবর্ধক ঔষধি গুণসম্পন্ন গাছগাছড়া, ডাল, তৈলবীজ মসলা জাতীয় ফসল ইত্যাদিকে বুঝায় উচ্চমূল্য ফসল খাতে ঋণ প্রদানের জন্য ব্যাংকগুলো প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখবে এবং ঋণ বিতরণ করবে

বিশেষ বিশেষ সবজি (করল্লা, লাউ, বেগুন, বাঁধাকপি, গাজর, ফুলকপি, বরবটি, সীম, মটরশুটি, ঢেঁড়শ, পটল, আলু, মিষ্টি কুমড়া, টমেটো), ফল (কলা, লেবু, পেয়ারা, বরই, লিচু, আম, পেঁপে, তরমুজ, মাল্টা, সফেদা, বাউকুল, স্ট্রবেরী, কমলা, আমড়া), মসলা (আদা, রসুন, পেঁয়াজ, মরিচ, হলুদ), তৈলবীজ (উফশী সূর্যমুখী চিনাবাদাম, ওয়েল পাম) এবং পোলাউ (সুগন্ধি) চাল, উফশী ভুট্টা, মুগ ডাল ইত্যাদি উচ্চমূল্য ফসল হিসেবে বিবেচিত

টিস্যু কালচার প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশেই স্বল্প ব্যয়ে আলু, স্ট্রবেরি ইক্ষুসহ কিছু কিছু ফল ফুল গাছের  উন্নতমানের বীজ/চারা উৎপাদন করা সম্ভব টিস্যু কালচার খাতে বিনিয়োগ মূলত পুঁজিঘন হলেও তা কিছুটা সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নতমানের বীজ/চারা সরবরাহের মাধ্যমে কৃষকের উপকারে আসতে পারে বিনিয়োগ ঝুঁকি পর্যালোচনাপূর্বক কৃষি ঋণের আওতায় টিস্যু কালচার খাতে ব্যাংকগুলো ঋণ প্রদান করতে পারে

পাট চাষে বাংলাদেশের রয়েছে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য সম্প্রতি পাটের জীবন রহস্য (মবহড়সব ংবয়ঁবহপব) আবিষ্কৃত হয়েছে, যার ফলে পাট বীজের গুণগত মান, পুষ্টি, আঁশ উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, বেড়ে উঠার অবস্থা ইত্যাদি তথ্য জানা সম্ভব হয়েছে এটি পাট চাষের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে এর মাধ্যমে কম পানিতে পাট পঁচানো, রোগ আগাছা প্রতিরোধী, লবণাক্ততা সহনশীল এবং উন্নত আঁশ উৎপাদনকারী জাত উদ্ভাবন করে তা অল্প খরচে কৃষকের নিকট সরবরাহ করা যাবে বলে বিজ্ঞানীরা আশা করছেন বাংলাদেশের আবহাওয়া পাট চাষের উপযোগী হওয়ায় পৃথিবী জু বাংলাদেশী পাটের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে পাট চাষের ক্ষেত্রে যে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে তাকে কাজে লাগানো প্রয়োজন সঙ্গতকারণে, বাংলাদেশের যে সব অঞ্চলে পাট চাষ হয় সে সব অঞ্চলে পাট চাষ, চাষের সরঞ্জাম ক্রয় খাতে ব্যাংকগুলো সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করতে পারে                            

ওয়েলপাম বাংলাদেশের তরল সোনা হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে আমদানি নির্ভর ভোজ্য তেলের চাহিদা মেটানো এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে নতুন কৃষিপণ্য হিসেবে বাংলাদেশে ওয়েলপাম চাষ বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে দেশের পাহাড়ি এলাকাসহ ২৭টি কৃষি অঞ্চল ওয়েলপাম চাষের জন্য খুবই উপযোগী বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী সিলেট বিভাগের বেশকিছু এলাকায় সীমিত আকারে ওয়েলপাম চাষ শুরু হলেও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এখনও ওয়েলপাম চাষ হচ্ছে না চারা রোপণের সাড়ে তিন থেকে চার বছরের মধ্যে ওয়েলপাম গাছ থেকে তেল উৎপাদনের জন্য পরিপক্ক ফল পাওয়া যায় এবং বাণিজ্যিকভাবে ওয়েলপামের চাষ করলে তা থেকে প্রায় পঁয়ত্রিশ বছর পর্যন্ত ফল পাওয়া যায় বর্তমানে বাংলাদেশে যে ওয়েলপামের বীজ উৎপাদিত হয় তা থেকে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে তেল উৎপাদন করা হয়, যা বাণিজ্যিকভাবে খুব একটা লাভজনক নয় কিন্তু ক্রাশার মেশিনের মাধ্যমে অটোমেটিক পদ্ধতিতে পাম তেল উৎপাদন করা খুবই লাভজনক তাই সমগ্র দেশে পরিকল্পিতভাবে ওয়েলপাম চাষ ছড়িয়ে দেয়া এবং উৎপাদিত ওয়েলপাম আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রক্রিয়াকরণ করা সম্ভব হলে তা ভোজ্য তেলের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে

 

বাণিজ্যিকভাবে ওয়েলপাম চাষে সফলতা লাভের জন্য খাতে ব্যাংক ঋণের প্রয়োজন রয়েছে ব্যাংক থেকে আর্থিক সহায়তা পেলে কৃষকগণ বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ওয়েলপাম চাষে আগ্রহী হবেন তাই ওয়েলপাম চাষে আগ্রহীদেরকে ব্যাংকগুলো ঋণ নিয়মাচার অনুসরণ করে মধ্য/দীর্ঘমেয়াদি ঋণ প্রদান করতে পারে

আম বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং জনপ্রিয় ফল আমকে বাংলাদেশের ফলের রাজা বলা হয়ে থাকে ২০১৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিশ্বের সপ্তম আম উৎপাদনকারী দেশ বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই কমবেশী আম উৎপাদিত হয়ে থাকে তবে, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, দিনাজপুর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর প্রভৃতি অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে আমের চাষ করা হয়ে থাকে এসব অঞ্চলে উৎপাদিত আম বর্তমানে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে চাষাবাদের মাধ্যমে আমের উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব হলে আম রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব আমাদের দেশে সাধারণতঃ এপ্রিল-জুলাই মাসে আমের আবাদ শুরু হয় এবং মে-আগষ্ট মাসে পাকা আম বাজারে পাওয়া যায় তবে, সময়কাল ছাড়াও, বাণিজ্যিকভাবে আম চাষের জন্য প্রায় সারাবছর আম বাগানের পরিচর্যা করার প্রয়োজন হয় উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে একটু যতœবান হলে আমের ফলন কয়েকগুণ বাড়ানো যায় আর তাই এর যতœ নিতে হয় আম সংগ্রহের পর থেকেই মৌসুমের পর পরেই রোগাক্রান্ত মরা ডালপালা একটু ভাল অংশসহ কেটে ফেলতে হয় এছাড়া প্রায় সারাবছর ধরে জমি তৈরি, সেচ প্রদান, সার কীটনাশক প্রদান ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজন হয় সকল কারণে উৎপাদন মৌসুম ছাড়াও অন্যান্য সময়ে বাণিজ্যিকভাবে আম চাষের জন্য ঋণের প্রয়োজন হয় তাই সমগ্র দেশে পরিকল্পিতভাবে আম চাষ ছড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে আমের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আম চাষীদের অনুকূলে সারাবছর ঋণ প্রদান করা যাবে তবে, ক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তার পরামর্শক্রমে ঋণ নিয়মাচার নির্ধারণ করে সে অনুযায়ী ঋণ প্রদান করা যাবে

 

অন্যদিকে লিচু আমাদের দেশের একটি জনপ্রিয় ফল দেশের সকল স্থানেই কমবেশি লিচু চাষ হয়ে থাকে পরিকল্পিতভাবে লিচুবাগান করতে হলে চারা রোপণ থেকে শুরু করে সারাবছর ধরে জমি তৈরি, কীটনাশক প্রদান, সার প্রয়োগ ইত্যাদি কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজন হয় এছাড়া আবহাওয়া মাটির ধরণ অনুসারে লিচু গাছে ফুল আসার পরে সপ্তাহ অন্তর সেচ দিতে হয় লিচু চাষে ফল সংগ্রহের পর পর রোগাক্রান্ত মরা ডালপালা একটু ভাল অংশসহ কেটে ফেলতে হয় লিচু ফলের মৌসুম শেষ হওয়ার পর পরই গুটি কলমকৃত লিচুর চারা রোপণ কার্যক্রম শুরু করতে হয় তাই সারাবছর ধরেই লিচু চাষে অর্থের যোগান প্রয়োজন হয় এপ্রেক্ষিতে, লিচু উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিচু চাষীদের অনুকূলে সারাবছর ঋণ প্রদান করা যাবে

 

পেয়ারা ভিটামিন-সি, ক্যালসিয়াম অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য উপাদান সমৃদ্ধ একটি জনপ্রিয় ফল দেশীয় ফলসমূহের মধ্যে পেয়ারা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত অন্যতম লাভজনক ফল হিসেবেও বিবেচিত বর্তমানে বিভিন্ন উন্নত জাত উদ্ভাবন হওয়ায় বিভিন্ন ঋতুতে তথা সারা বছরই ব্যাপক হারে এবং প্রচুর পরিমানে পেয়ারার উৎপাদন হচ্ছে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ প্রায় সমগ্র এলাকায় পেয়ারা চাষ হয়ে থাকে পরিকল্পিতভাবে বাগান করে বাণিজ্যিকভাবে পেয়ারা চাষ করা হয় অধিক উৎপাদনের জন্য উন্নত জাতের চারা রোপন, জমির পরিচর্যা, সার প্রয়োগ, বালাইনাশক পদ্ধতি ইত্যাদি কার্যক্রম গ্রহণ করতে হয় পেয়ারা উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাগান পরিচর্যা এবং চাষে সারা বছরই চাষিদের অর্থের প্রয়োজন হয় তাই ব্যাংকসমূহ কর্তৃক ঋণ নিয়মাচার এবং কৃষি পল্লী ঋণ নীতিমালা অনুসারে সমগ্র দেশে পেয়ারা উৎপাদনে সারা বছর ঋণ প্রদান করা যাবে

বাংলাদেশে সারা বছরই বিভিন্ন ধরণের সবজি/ফল উৎপাদিত হয় সকল সবজি/ ফল সাধারণত মৌসুম অনুযায়ী উৎপাদিত হয়ে থাকে তবে, বর্তমানে বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহসহ অন্যান্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য বেসরকারী রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ক্রমাগত গবেষণার ফলে সকল সবজি/ফলের অমৌসুম জাতও আবিষ্কৃত হয়েছে সবজি/ফলের ধরণের অমৌসুম জাত চাষাবাদের ক্ষেত্রে সাধারণত অত্র নীতিমালা কর্মসূচিতে সংযোজিত ঋণ নিয়মাচারে উল্লিখিত একর প্রতি ঋণসীমার অধিক খরচ হয় ক্রমবর্ধমান খাদ্য চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে ধরণের অমৌসুমী সবজি/ ফলের চাষাবাদ উৎসাহিত করার লক্ষ্যে ব্যাংকসমূহ খাতে কৃষি ঋণ প্রদান করতে পারবে অমৌসুমী সবজি/ ফলের চাষাবাদে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনবোধে ঋণ নিয়মাচারে উল্লিখিত একর প্রতি ঋণ সীমার অনধিক ২৫% বেশী পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করতে পারবে

দেশে মরুকরণ প্রক্রিয়া রোধ করে সার্বিক পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য সরকারের ব্যাপক বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচি এবং গ্রামীণ সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির প্রেক্ষিতে গাছের চারার বিপুল চাহিদা পূরণের নিমিত্তে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বেসরকারি খাতে নার্সারী স্থাপন করার জন্য প্রয়োজনীয় ঋণ সরবরাহ করার লক্ষ্যে ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বাণিজ্যিকভাবে ফুল ফল চাষ এবং এদের বীজ উৎপাদন এবং বাহারী উদ্ভিদ, ক্যাকটাস অর্কিড চাষের জন্যও চাহিদা অনুযায়ী ঋণ প্রদান করা যাবে এসব খাতে ঋণ প্রদানের জন্য প্রয়োজনে উদ্যানতত্ত্ববিদ বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে ব্যাংকগুলো নিজেরাই ঋণের পরিমাণ, মেয়াদ পরিশোধসূচি নির্ধারণ করতে পারবে

অষড়ব ঠবৎধ একটি বহুবর্ষজীবি (চবৎবহহরধষ) গাছ যা শুষ্ক অঞ্চলে জন্মে থাকে সারা পৃথিবীতে এর ঔষধি গুণের জন্য বিশেষভাবে সমাদৃত এটা লিলিয়েসী পরিবারের উদ্ভিদ বিভিন্ন পরিবর্তিত আবহাওয়ায় জন্মে কম বৃষ্টিপাত এবং বেলে মাটিতেও ভাল জন্মে এটা রুট সাকার/রাইজোম চারার মাধ্যমে বংশ বিস্তার করা হয়

চারাঃ  প্রতি হেক্টরে ৩৭,০০০ - ৫০,০০০ সাকারের প্রয়োজন হয়

গাছ থেকে গাছের দূরত্বঃ ৪০ ৪৫ পস অথবা ৬০ ৩০ পস

সেচঃ রেইনফেড এবং ইরিগেটেড অবস্থায় জন্মাতে পারে মাটি তুলে দেয়া এবং আগাছা দমন করা উচিত

চারা লাগানোর ২য় বছর হতে ফসল তোলা শুরু হয় (এক) হেক্টর জমি থেকে ৪০-৪৫ মেঃ টন ঘন রসালো পাতা পাওয়া যায় ঘৃত কুমারী চাষে কৃষি ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সংযুক্ত ঋণ নিয়মাচার অনুসরণপূর্বক ঋণ প্রদান করতে পারবে

ড্রাগন ফল ক্যাকটাস দলীয় লতানো গাছ কারণে ড্রাগন ফল গাছকে সোজাভাবে বাড়তে সহায়তা দেয়ার জন্য খুটি বা পিলারের প্রয়োজন হয় এটা একটা অতি দ্রুত বর্ধনশীল, তিন শিরা, ক্ষুদ্র কাঁটা বিশিষ্ট লতানো গাছ এটা ক্যাকটাস পরিবারভূক্ত হলেও গাছের খরা সহিষ্ণু গুণ কম বিগত - বছর ধরে ড্রাগন ফল চাষ হাইভ্যালু ফল হিসাবে এদেশে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে ড্রাগন ফলের ঠান্ডা সরবতের স্বাদ অপূর্ব; জ্যাম, জেলী, সিরাপ, জুস, ক্যান্ডি, ওয়েন এবং আইস ক্রীম তৈরীতে ড্রাগন ফ্লেভার অতি আকর্ষণীয় কচি ফল তরকারী হিসাবে যথেষ্ট সুস্বাদু প্রচুর জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ দো-আঁশ মাটি ফল চাষের জন্য উপযোগী ফলের অধিকাংশ জাতের কিছুটা লবণাক্ত সহিষ্ণু গুণ আছে জন্য দক্ষিনাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে ফল চাষ সম্প্রসারণে প্রচুর সুযোগ রয়েছে ড্রাগন ফল চাষে কৃষি ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সংযুক্ত ঋণ নিয়মাচার অনুসরণপূর্বক ঋণ প্রদান করতে পারবে

চা বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল রপ্তানী পণ্য দেশের বৃহত্তর সিলেট, চট্টগ্রাম এবং উত্তরাঞ্চলীয় পঞ্চগড় এলাকায় চা চাষ হয় দেশের বিভিন্ন এলাকায় চা চাষ উপযোগী জমিতে চায়ের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বৃদ্ধি করা সম্ভব, যার ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে আরো অধিক চা বিদেশে রপ্তানি করা যাবে চা চাষ উপযোগী জমিতে নতুন চা বাগান সৃজন বা বাগানের সম্প্রসারণ উৎসাহিত করার লক্ষ্যে চা চাষে সবুজ পাতা উৎপাদন পর্যন্ত কার্যক্রমে কৃষি ঋণ প্রদান করা যাবে চা বাগান সৃজনের জন্য মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ধাপসমূহ যথা- চা চারা উৎপাদন, রোপণ পরিচর্যা, প্রুনিং, প্লাকিং ইত্যাদি কৃষি খাতের (৬০%) আওতায় পড়বে তবে, প্লাকিংকৃত সবুজ চা পাতা প্রক্রিয়াজাতকরণের ধাপটি শিল্প (৪০%) পর্যায়ে পড়বে চা চাষে কৃষি ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সংযুক্ত ঋণ নিয়মাচার অনুসরণপূর্বক ঋণ প্রদান করতে পারবে তবে, এই ঋণ সর্বোচ্চ পাঁচ বছর মেয়াদে শুধুমাত্র চা চাষ উপযোগী জমিতে নতুন বাগান সৃজন বা বাগানের সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে

দেশে ডাল, তৈলবীজ, মসলা জাতীয় ফসল ভুট্টার প্রচুর চাহিদা থাকা সত্ত্বেও উৎপাদন সে অনুযায়ী যথেষ্ট নয় বিধায় সব পণ্য আমদানি বাবদ প্রতি বছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয় ধরনের ফসল চাষকে উৎসাহ দিতে এবং খাতে ঋণ বিতরণে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি বাণিজ্যিক বিদেশী ব্যাংকগুলোকে উৎসাহ দিতে সরকারের সুদ ক্ষতিপূরণ সুবিধার আওতায় ২০১০-১১ অর্থবছরের ০১ জুলাই থেকে ডাল, তৈলবীজ, মসলা জাতীয় ফসল ভুট্টা চাষের জন্য প্রদত্ত কৃষি ঋণের ওপর কৃষক পর্যায়ে বিদ্যমান সুদহার শতাংশে নির্ধারণ করা হয়

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি বিদেশী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের বার্ষিক কৃষি পল্লী ঋণ লক্ষ্যমাত্রার আওতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারের শতাংশ হারে সুদক্ষতি পূরণ সুবিধার আওতায় ডাল, তৈলবীজ মসলা জাতীয় ফসল ভুট্টা চাষের জন্য ঋণ বিতরণ করতে পারবে সে ক্ষেত্রে সুদক্ষতি বাবদ প্রদত্ত শতাংশ হিসাবে নেয়ার পরও কোনো ব্যাংকের কিছুটা সুদ ক্ষতি হলে উক্ত অংশটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর)-এর আওতায় গণ্য করা হবে

সরকারের সুদ ক্ষতি পূরণ সুবিধার আওতায় ডাল, তৈলবীজ, মসলা জাতীয় ফসল ভুট্টা চাষের জন্য শতাংশ রেয়াতি সুদহারে কৃষি ঋণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের সুবিধার্থে মূল অনুসরণীয় বিষয়গুলো নি¤œ দেওয়া হলো  

 

 ঋণ বিতরণ আদায়

()          নি¤œাক্ত ফসলসমূহের ক্ষেত্রে শতাংশ হার সুদে অর্থায়ন সুবিধা প্রযোজ্য হবেঃ

 ডাল জাতীয় ফসল মুগ, মশুর, খেসারী, ছোলা, মটর, মাষকলাই অড়হর

                              তৈলবীজ জাতীয় ফসল সরিষা, তিল, তিসি, চীনাবাদাম, সূর্যমুখী সয়াবিন

 মসলা জাতীয় ফসল আদা, রসুন, পেঁয়াজ, মরিচ, হলুদ জিরা

 ভুট্টা

 

(উল্লিখিত ফসল চাষের জন্য রেয়াতি সুদে ঋণ বিতরণ আদায়ের ক্ষেত্রে নি¤œাক্ত নিয়মাবলী অনুসরণ করতে হবে

                ) একর প্রতি উৎপাদন খরচের ভিত্তিতে ঋণের সর্বোচ্চ সর্বনি¤œ পরিমাণ, ঋণ বিতরণের মৌসুম ইত্যাদি নির্ধারণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক প্রতি অর্থবছরের শুরুতে জারীকৃত কৃষি পল্লী ঋণ নীতিমালা কর্মসূচিতে উল্লিখিত ঋণ নিয়মাচার প্রযোজ্য হবে

 

                প্রকৃত ঋণ চাহিদার আলোকে ব্যাংকসমূহ রেয়াতি সুদের জন্য উল্লিখিত ফসল চাষের উদ্দেশ্যে প্রদেয় ঋণের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে বছরের শুরুতেই সংশ্লিষ্ট শাখাসমূহকে যথাযথ নির্দেশনা জারি করবে এবং লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ঋণ বিতরণ নিশ্চিত করার জন্য শাখাসমূহের ঋণ বিতরণ অগ্রগতির তদারকি ব্যবস্থা প্রবর্তন করবে

 

                কৃষি ঋণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক জারিকৃত বর্তমানে অনুসৃত অন্যান্য নীতিমালা যেমনঃ কৃষক প্রতি ঋণের সর্বোচ্চ সীমা, জামানত, আবেদনপত্র গ্রহণ প্রক্রিয়াকরণের সময়কাল, ঋণ গ্রহীতার যোগ্যতা নিরুপণ, পাস বইয়ের ব্যবহার, ঋণ বিতরণ, ঋণের সদ্ব্যবহার, তদারকি আদায় ইত্যাদি সব ফসলের ক্ষেত্রেও যথারীতি অনুসৃত হবে

 

রেয়াতি সুদে বিতরণকৃত ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোর আর্থিক ক্ষতিপূরণ

 

()          ব্যাংকগুলো রেয়াতি সুদে বিতরণকৃত ঋণের আদায়কৃত/সমন্বয়কৃত ঋণ হিসাবসমূহের বিপরীতে সংশ্লিষ্ট বছর সমাপ্তির ০১ (এক) মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট শতাংশ হারে সুদ ক্ষতিপূরণের আবেদন পেশ করবে উক্ত আবেদনের সঙ্গে তাদের বিতরণকৃত ঋণের বিস্তারিত তথ্য যেমন ঋণ গ্রহীতাভিত্তিক বিবরণী এবং শাখাভিত্তিক মোট ঋণ গ্রহীতার সংখ্যা, ঋণ মঞ্জুরির সময়কাল, বিতরণকৃত ঋণের মোট পরিমাণ, সমন্বয়কৃত ঋণের পরিমাণ, রেয়াতি সুদ অরোপের ফলে মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ইত্যাদি সম্বলিত একটি বিবরণী দাখিল করবে সুদ ক্ষতি পূরণের আবেদন প্রাপ্তির এক মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক তা যাচাইপূর্বক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অনুকূলে তা পূরণের ব্যবস্থা করবে

()         বাংলাদেশ ব্যাংক দৈবচয়ন (ৎধহফড়স ংধসঢ়ষরহম) ভিত্তিতে রেয়াতি হারে যোগ্য বলে দাবীকৃত ঋণের ন্যূনপক্ষে ১০ শতাংশ ঋণ সরেজমিনে যাচাই করবে এবং যাচাইকৃত ঋণের মধ্যে যে পরিমাণ ঋণ নিয়মানুযায়ী প্রদেয় হয়নি বলে প্রমাণিত হবে তার শতকরা হার নির্ণয় করে তা পুরো দাবীকৃত ঋণের ওপর কার্যকরপূর্বক প্রকৃত ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করবে এই হিসাবের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক তার নিজস্ব তহবিল হতে ব্যাংকগুলোর সুদ ক্ষতির অর্থ পরিশোধ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা পুনর্ভরণের ব্যবস্থা করবে

 

()         ঋণ বিতরণকারী শাখাসমূহ রেয়াতি সুদে বিতরণকৃত ঋণ গ্রহীতাদের তালিকাসহ এতদ্সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য যেমন মোট ঋণ গ্রহীতার সংখ্যা, ঋণ গ্রহীতার ঠিকানা, জমির পরিমাণ, ঋণ মঞ্জুরি বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ, ঋণের মেয়াদ, সমন্বয়ের তারিখ ইত্যাদি সংরক্ষণ করবে যাতে করে প্রয়োজনবোধে ক্ষতিপূরণের অর্থ পুনর্ভরণের পূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক তার যথার্থতা যাচাই করা সম্ভব হয় এছাড়া ঋণ বিতরণকারী শাখাসমূহ এতদ্সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য বিবরণী আকারে স্ব স্ব ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে স্থাপিত বিশেষ ঋণ মনিটরিং সেল-এর নিকটও প্রেরণ করবে

 

()         নির্ধারিত ফসল চাষে প্রকৃত চাষিদের অনুকূলে রেয়াতি সুদে প্রদত্ত ঋণের সদ্ব্যবহার নিশ্চিতকরণার্থে আলোচ্য ঋণ বিতরণে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো ফলপ্রসূ তদারকির যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে

 

()         মঞ্জুরির সময় নির্ধারিত মেয়াদের সাথে গ্রেস পিরিয়ড (ছয়) মাস বৃদ্ধি করে প্রদত্ত ঋণের ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নিরূপিত হবে নির্ধারিত মেয়াদ শেষে কোন ঋণ সম্পূর্ণ বা আংশিক অনাদায়ী থাকলে তার ওপর রেয়াতি সুদ প্রযোজ্য হবে না মেয়াদোত্তীর্ণ বকেয়ার ওপর ব্যাংকের নির্ধারিত স্বাভাবিক সুদ হারই ঋণ বিতরণের তারিখ হতে প্রযোজ্য হবে

()         উপর্যুক্ত ব্যবস্থার অধীনে ঋণ বিতরণ এবং সুদসহ যথানিয়মে আদায় করার জন্য তদারকি জোরদার করতে হবে

()         শতাংশ হারে বিতরণকৃত ঋণের সদ্বব্যবহার যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে খাতে

বাংলাদেশে খাবার এবং শিল্প ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য লবণের প্রচুর চাহিদা রয়েছে দেশের সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলে লবণ চাষের অনুকূল পরিবেশও বিদ্যমান উপকূলীয় এলাকায় লবণ চাষের সাথে প্রচুর ক্ষুদ্র, প্রান্তিক বর্গাচাষি জড়িত তারা প্রায়ই ঘূর্ণিঝড় জলোচ্ছ্বাসের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকারের ফলে আর্থিকভাবে দুর্বল হওয়ায় তাদেরকে সহজ শর্তে স্বল্প সুদে লবণ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় কৃষি ঋণ প্রদান করা প্রয়োজন লক্ষ্যে এরিয়া এপ্রোচ ভিত্তিতে উপকূলীয় এলাকার ব্যাংক শাখাসমূহকে লবণ চাষের জন্য কৃষকদেরকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ ঋণ বিতরণ করবে

 

প্রকৃত লবণ চাষিদেরকে জনপ্রতি . বিঘা হতে . একর পর্যন্ত এলাকায় লবণ চাষের জন্য সরকারি ভর্তুকি ব্যবস্থায় শতাংশ রেয়াতি সুদহারে একক/গ্রুপ ভিত্তিতে ঋণ প্রদান করতে হবে তবে শর্ত থাকে যে, লবণ চাষিগণ কর্তৃক গৃহীত ঋণের অর্থ পরিশোধের জন্য নির্ধারিত সর্বশেষ তারিখের মধ্যে পরিশোধিত হতে হবে

 

জমির ভাড়া, পলিথিন ক্রয়, বাঁধ নির্মাণ ইত্যাদি ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে একটি ঋণ নিয়মাচার প্রণয়ন জারি (এসিডি সার্কুলার নং-০১/২০১১) করা হয়েছে যে সকল লবণ চাষির নিজস্ব জমি রয়েছে তাদের ঋণের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য জমির ভাড়া বাদ দিতে হবে তবে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো প্রয়োজনে স্থানীয় অবস্থাভেদে একর প্রতি লবণ চাষের জন্য ঋণের পরিমাণ নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারণ করতে পারবে

পান চাষ তুলনামূলকভাবে লাভজনক হওয়ায় জীবিকা নির্বাহের জন্য অনেক কৃষক পান চাষের সাথে জড়িত উৎপাদিত পান অভ্যন্তরীন চাহিদা পূরণ করে বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও সহায়তা করছে দেশে সাধারণভাবে বরজে পান চাষ করা হয়ে থাকে সিলেট অঞ্চলে আদিবাসীরা অন্য গাছের গায়ে লতানো পদ্ধতিতে পান চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলেও যথেষ্ট পরিমাণ পান চাষ হয়ে থাকে পান চাষের ক্ষেত্রে ঋণ বিতরণের জন্য বিদ্যমান ঋণ নিয়মাচার অনুসরণ করতে হবে বরজে পান চাষের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ ঋণ সরবরাহের পাশাপাশি প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পানচাষিদেরকে একক/দলভিত্তিতে ঋণ প্রদান করবে

মধু প্রকৃতির একটি অনন্য দান মধু পুষ্টিকর সুস্বাদু বাজারে খাঁটি মধুর যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে ঔষধি গুণের কারণেও মধুর চাহিদা ব্যাপক ক্ষেতে অন্যান্য ফল/ফুল/ফসল চাষের পাশাপাশি খাঁচায় মৌমাছির চাক সৃষ্টি করে মধু চাষ একটি লাভজনক খাত যেসব এলাকায় মধু চাষ করা হয়ে থাকে অথবা মধু চাষের সম্ভাবনা রয়েছে, সে-সব এলাকায় মৌচাষিদের অনুকূলে প্রয়োজনীয় ঋণ নিয়মাচার (“পরিশিষ্ট-”, ক্রমিক নং-১১৪) অনুসরণে ঋণ বিতরণ করতে হবে ছোট আকারে মৌমাছি পালন মধু চাষিদেরকে একক/ গ্রুপভিত্তিতে ঋণ প্রদান করতে হবে একক ব্যক্তিকে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাংকের নিকট গ্রহণযোগ্য তৃতীয় পক্ষের ব্যক্তিগত গ্যারান্টি এবং গ্রুপভিত্তিতে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে গ্রুপ গ্যারান্টি প্রয়োজনে তৃতীয় পক্ষের ব্যক্তিগত গ্যারান্টি গ্রহণ করে সর্বোপরি ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলো খাতে ঋণ বিতরণ করতে পারে

কৃষি পল্লী ঋণ সুবিধা বর্গাচাষিসহ ক্ষুুদ্র প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের কাছে পৌঁছানোর পাশাপাশি আয় উৎসারী কর্মকান্ড দারিদ্র্য বিমোচন খাতে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে স্ব-কর্মসংস্থান সৃষ্টি দারিদ্র্য লাঘবকরণ কৃষি পল্লী ঋণ নীতিমালার অন্যতম উদ্দেশ্য এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে অপেক্ষাকৃত অনগ্রসর এবং উপেক্ষিত এলাকায় (যেমন চর, হাওড়, উপকূলীয় এলাকা, পাহাড়ী অঞ্চল ইত্যাদি) কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে অনগ্রসর এলাকার কৃষকদের ঋণের ওপর সুদের হার তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম ধার্য করা যেতে পারে

ভূমিহীন কৃষক (যাদের জমির পরিমাণ .৪৯৪ একরের কম) এবং ক্ষুদ্র প্রান্তিক কৃষক (যাদের জমির পরিমাণ .৪৯৪ একর থেকে .৪৭ একর) এবং বর্গাচাষিদেরকে (যেসব কৃষক অন্যের জমি বর্গা চাষ করে এবং নিজস্ব মালিকানায় জমির পরিমাণ সর্বোচ্চ একর) ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে কৃষি উৎপাদনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত বর্গাচাষিরা নীতিমালার আওতায় কৃষি ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন এক্ষেত্রে বর্গাচাষির জাতীয় পরিচয়পত্র থাকতে হবে কৃষি ঋণ বিতরণকারী ব্যাংক শাখার আওতাধীন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা কোনো প্রকৃত কৃষক জমির মালিকের কাছ থেকে একটি প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহপূর্বক তা ব্যাংকে জমা দিয়ে কৃষি ঋণ নিতে পারবেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদত্তকৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ডথাকলে এক্ষেত্রে তাও প্রযোজ্য হবে সম্প্রতি ১০ টাকা জমা গ্রহণপূর্বক খোলা একাউন্টধারী কৃষকদেরকে সনাক্তকরণের জন্য উক্ত একাউন্ট/কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড ব্যতীত পৃথক কোনো কাগজপত্রের প্রয়োজন হবে না জমির মালিকের প্রত্যয়নপত্র পাওয়া না গেলে স্থানীয় এলাকার দায়িত্বশীল গণ্যমান্য ব্যক্তির কাছ থেকে সংগৃহীত প্রত্যয়নপত্রের বিপরীতেও ব্যাংক বর্গাচাষিদেরকে কৃষি ঋণ দিতে পারবে জাতীয় পরিচয়পত্র আছে কিন্তু কৃষি উপকরণ সহায়তা কার্ড নেই সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা স্থানীয় স্কুল/কলেজের প্রধান শিক্ষক অথবা ব্যাংকের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তির দেওয়া প্রত্যয়নপত্রও প্রকৃত কৃষক সনাক্তকরণের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে

 

প্রকৃত বর্গাচাষি সনাক্তকরণের পর বার্ষিক শস্য ঋণ নিয়মাচার অনুযায়ী তাদের অনুকূলে ঋণ বিতরণ করতে হবে বর্গাচাষি যদি সংশ্লিষ্ট জমি ভাড়ার ভিত্তিতে চাষ করে থাকে সে ক্ষেত্রে জমির ভাড়াসহ ঋণের পরিমাণ নির্ধারিত হবে বর্গাচাষিদের অনুকূলে ঋণ বিতরণকারী ব্যাংকের প্রচলিত নীতিমালায় পাশ বই ইস্যু করা যেতে পারে প্রান্তিক, ক্ষুদ্র বর্গাচাষিদের অনুকূলে ব্যাংক ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করতে একক/গ্রুপভিত্তিতে কৃষি ঋণ প্রদান করতে হবে

 

কোনো বর্গাচাষি যদি একই মালিকের জমি পর পর তিন বছর চাষাবাদ করেসেক্ষেত্রে ‘‘আবর্তনশীল শস্য ঋণসীমা পদ্ধতি" নীতিমালা তাদের বেলায়ও প্রযোজ্য হবে বর্গাচাষির নামে যাতে কোন -কৃষক ঋণ গ্রহণ করতে না পারে সেজন্য ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক নিবিড় মনিটরিং এর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন

সফল কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরিমাণ কৃষি ঋণ প্রদানের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে এতে করে তাদের সাফল্যে অন্যান্য কৃষকরাও উৎসাহিত হবেন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সফল কৃষকদের তালিকা কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর হতে সংগ্রহ করা হয়েছে পরবর্তীতে তা বিভিন্ন ব্যাংকে সরবরাহ করা হবে তবে অনেক সফল কৃষকের নাম তালিকায় অন্তর্ভূক্ত না- থাকতে পারে; তালিকার বাইরে থাকা অনেক কৃষক সম্প্রতি সাফল্য লাভ করে থাকতে পারেন সে প্রেক্ষিতে তালিকায় না থাকা সফল কৃষকদেরকেও ব্যাংক প্রয়োজনীয় পরিমাণ কৃষি ঋণ প্রদান করবে

চাহিদা, পুষ্টিগত দিক বাংলাদেশের আবহাওয়ায় চাষোপযোগিতা বিবেচনায় এবং বেকারত্ব নিরসনে ক্ষুদ্র উদ্যোগে মাশরুম চাষ উৎসাহিত করা প্রয়োজন বাণিজ্যিকভাবে মাশরুম চাষে সফলতা লাভের জন্য খাতে ব্যাংক ঋণের প্রয়োজন রয়েছে সে লক্ষ্যে মাশরুম চাষে ঋণ প্রদান করতে হবে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে জাতীয় মাশরুম উন্নয়ন সম্প্রসারণ কেন্দ্র অথবা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে মাশরুম চাষে আগ্রহী কৃষকগণকে ব্যাংকসমূহ ঋণ নিয়মাচার অনুসরণ করে ঋণ প্রদান করতে পারবে

Krishiloan APP available now.

Google Play Store Apple Store

Secure By

comodo SSL