বাংলাদেশ ব্যাংক নীতিমালা

বর্তমানে দেশে গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ঘাসের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং বাণিজ্যিকভাবে ঘাস উৎপাদন লাভজনক বিবেচিত হওয়ায় দেশের উত্তরাঞ্চলসহ সারাদেশে ঘাসের চাষাবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে বাণিজ্যিকভাবে ঘাস চাষে সফলতা লাভের জন্য এখাতে ব্যাংক ঋণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে সেলক্ষ্যে নেপিয়ার ঘাস চাষে ঋণ প্রদানের জন্য ব্যাংকসমূহ সংযুক্ত ঋণ নিয়মাচার (পরিশিষ্ট-) অনুসারে কৃষি ঋণ বিতরণ করতে পারবে

রেশম জাতীয় বস্ত্রের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য রেশম চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে রাজশাহীসহ যে সব অঞ্চলে রেশম চাষের সম্ভাবনা রয়েছে সেসব এলাকায় ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ রেশম চাষ/রেশম কীট উৎপাদন, তুঁত গাছের চাষ ইত্যাদি কর্মকা- ঋণ প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে রেশম চাষ সম্প্রসারণ কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ করে উপর্যুক্ত কর্মকা- ঋণের পরিমাণ, মেয়াদ পরিশোধসূচি নির্ধারণ করা যেতে পারে এছাড়া, বাণিজ্যিকভাবে রেশম উৎপাদনের জন্য সংযুক্ত ঋণ নিয়মাচার অনুসরণ করে ঋণ প্রদান করতে পারবে

তুলা একটি অর্থকরী ফসল এটি বাংলাদেশের বস্ত্র খাতের অপরিহার্য কাঁচামাল দেশে চাহিদার তুলনায় উৎপাদনের বিপুল ঘাটতি মেটাতে তুলা আমদানিতে প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয় চাহিদার প্রায় পুরোটাই গুটিকয়েক দেশ থেকে আমদানি করতে হয় বিধায় তা আমাদের বস্ত্র শিল্পে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে ভবিষ্যতে তুলা রপ্তানিকারক দেশগুলো কর্তৃক যে কোনো ধরনের সংকোচনমূলক নীতি গ্রহণের ফলে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় দেশে তুলা উৎপাদনের ওপর জোর দিতে হবে লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় ঋণ সরবরাহের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে খাতে ঋণ প্রদানের জন্য স্থানীয় তুলা উন্নয়ন কর্মকর্তার সাথে পরামর্শ করে ব্যাংকগুলো নিজেরাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে অথবা সংযুক্ত ঋণ নিয়মাচার অনুসরণ করে ঋণ প্রদান করতে পারবে

কৃষি ঋণ ছাড়াও গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতিসঞ্চার করে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষি এবং অকৃষি নানাবিধ আত্ম-কর্মসংস্থানমূলক আয়-উৎসারী কর্মকান্ডে ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ একক/দলীয় ভিত্তিতে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে ছোট ছোট ব্যবসা, বিশেষ করে ক্ষুদ্র কুটির শিল্প যেমন- বাঁশ বেতের কাজ, ধান ভাঙ্গানো, চিড়া/মুড়ি তৈরি, কামার কুমারের কাজ, নৌকা ক্রয়, মৌমাছি পালন, সেলাই মেশিন/দর্জি, কৃত্রিম গহনা তৈরি, মোমবাতি তৈরি, কাঠের কাজ, মুদি দোকান, শারীরিক প্রতিবন্ধী, দরিদ্র মহিলাদের কর্মসংস্থান ইত্যাদি সাথে জড়িতদের প্রয়োজন অনুযায়ী পুঁজি সরবরাহ করা যেতে পারে

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক তাঁত ঋণের জন্য পৃথক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণপূর্বক বার্ষিক কৃষি পল্লী ঋণ লক্ষ্যমাত্রায় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে ঋণ বিতরণ করে থাকে অন্যান্য সরকারি/বেসরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকসমূহও অনুরূপভাবে কৃষি ঋণের পাশাপাশি গ্রামীণ তাঁত শিল্পে ঋণ প্রদান করতে পারে এছাড়া, ব্যাংকসমূহ পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় তাঁত শিল্পে ঋণ বিতরণে অগ্রাধিকার প্রদান করবে

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী জনসংখ্যার কাঠামোর কারণে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল স্রোতে নারীদের সক্রিয় অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ একান্তভাবে অপরিহার্য

 

কৃষি কৃষির সাথে সম্পর্কিত আয় উৎসারী কর্মকা- নারীদের অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে তাদেরকে মানব সম্পদে রূপান্তরিত করতে হবে গ্রামের দরিদ্র মহিলারা যাতে অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন করতে পারেন সে জন্য তাদেরকে শস্য/ফসল উৎপাদন, ছোট আকারে কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কৃষি সম্পর্কিত ক্ষুদ্র ব্যবসা কর্মকা- অংশগ্রহণের জন্য ঋণ প্রদানের মাধমে উৎসাহ প্রদান করতে হবে কৃষি কর্মকা- যেমন বাগান করা, নার্সারি, শস্য উত্তোলন পরবর্তী কর্মকা-, বীজ উৎপাদন সংরক্ষণ, মৌমাছি পালন মধু চাষ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ইত্যাদি খাতে নারীদেরকে ঋণ প্রদান করা যেতে পারে

প্রতিবন্ধীরা যাতে মর্যাদার সাথে সমাজে অর্থবহ, ফলপ্রসূ অবদানমূলক জীবনযাপন করতে পারেন তার জন্য প্রতিবন্ধকতার ধরণ বিবেচনা করে কৃষি/অকৃষি নানাবিধ আত্মকর্মসংস্থানমূলক আয়-উৎসারী কর্মকা- ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ ঋণের ব্যবস্থা করবে প্রতিবন্ধীদের অর্থনৈতিক অগ্রগতির লক্ষ্যে তাদেরকে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাংকসমূহ প্রচলিত শর্তসমূহ কিছুটা শিথিল করতে পারে কৃষি ঋণ প্রদান ছাড়াও বাঁশ বেতের কাজ, ধান ভাঙ্গানো, নার্সারি, মৌমাছি পালন, মধু চাষ, ক্ষুদ্র মুদি দোকান ইত্যাদি খাতসহ সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের জন্য সুবিধাজনক খাতে শারীরিক প্রতিবন্ধীদের ঋণ প্রদান করা যেতে পারে

প্রচলিত ব্যাংকিং চ্যানেলে কৃষি ঋণ সুবিধাবঞ্চিত বর্গাচাষিদের দোরগোড়ায় সময়মত, হয়রানীমুক্ত, জামানতবিহীন স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ সুবিধা পৌঁছে দিতে বিগত ২০০৯-১০ অর্থবছরেবর্গাচাষিদের জন্য কৃষি ঋণ কর্মসূচিনামে একটি বিশেষ কৃষি ঋণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় যা দেশের শীর্ষস্থানীয় এনজিও ব্র্যাকের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন স্কীমের আওতায় ৫০০ কোটি টাকার আবর্তনশীল তহবিল নিয়ে ২০০৯-২০১০ অর্থবছর থেকে কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ৩৭টি জেলার ১৭২টি উপজেলায় ব্যাংক ঋণ সুবিধার আওতার বাইরে থাকা লক্ষ বর্গাচাষিকে বছরের জন্য শস্য/ফসল চাষ এবং কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য মাত্র ১০ শতাংশ (ফ্ল্যাট) সুদহারে ঋণ সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয় স্কীমের আওতায় প্রথমবারের মতো জামানতবিহীন এবং স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ পাওয়ায় বর্গাচাষিরা প্রকৃতই উপকৃত হচ্ছেন এবং তাদের জীবন মানের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে ঋণ বর্গাচাষিদের দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বিধায় জুন, ২০১২ কর্মসূচির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর জুলাই, ২০১২ হতে জুন, ২০১৫ পর্যন্ত আরো বছরের জন্য কর্মসূচির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয় এবং বর্গাচাষী পর্যায়ে ১৮ শতাংশ (ক্রমহ্রাসমান পদ্ধতিতে) সুদহার ধার্য করা হয়েছে পরবর্তীতে জুন, ২০১৫ কর্মসূচির দ্বিতীয় মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর স্কীমের আওতায় আরো ১০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি করে মোট ৬০০ কোটি টাকার আবর্তনশীল তহবিল গঠন এবং মেয়াদ জুলাই, ২০১৫ হতে জুন, ২০১৮ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে কর্মসূচির শুরু থেকে ৩০ জুন, ২০১৭ পর্যন্ত ব্র্যাকের মাধ্যমে দেশের ৪৮টি জেলার ২৫০টি উপজেলায় ব্যাংক ঋণের আওতার বাইরে থাকা প্রায় ১৩,৯৬,১৯৯ জন বর্গাচাষিকে শস্য ফসল ঋণ বাবদ ,০২৩.৬৫ কোটি টাকা কৃষি ঋণ প্রদান করা হয়েছে

বাংলাদেশের দরিদ্রতম উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের কৃষকদের বেশিরভাগই ধান উৎপাদন করে থাকে যার বাজার মূল্য তুলনামুলকভাবে কম উর্বর জমি থাকা সত্ত্বেও দারিদ্র্যক্লিষ্ট উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের দারিদ্র্য নিরসনে সনাতনী কৃষির পরিবর্তে উচ্চমূল্য ফসল/সবজি/ফল (অনুচ্ছেদ .০৯- বর্ণিত) উৎপাদনের জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাস্তবায়িত উত্তর-পশ্চিম শস্য বহুমুখীকরণ প্রকল্প (ঘঈউচ)-এর মেয়াদ ৩০ জুন, ২০০৯ তারিখে শেষ হয়েছে প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে উচ্চমূল্য ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত থাকলেও বর্তমানে প্রায় লক্ষ ৫৩ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে এসব ফসল চাষ করা হচ্ছে লক্ষ ৬০ হাজার কৃষককে প্রকল্পের মাধ্যমে ঋণের আওতায় এনে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও বর্তমানে প্রায় লক্ষ ৪০ হাজার কৃষককে ঋণের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে এই প্রকল্পের সফলতার প্রেক্ষিতে ঋণ চুক্তির শর্তানুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় ১৭৪ কোটি টাকার একটি রিভলভিং ফান্ড গঠন করা হয়েছে যার আওতায় রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের হোলসেলিং- ব্যবস্থাপনায় ৪টি এমএফআই মাধ্যমে (ব্র্যাক, প্রশিকা, আরডিআরএস এবং জিকেএফ) রাজশাহী রংপুর বিভাগের ১৬টি জেলার ৬১টি উপজেলায় . থেকে . হেক্টর জমির অধিকারী .৮৬ লক্ষ কৃষকের (যাদের ৬০ শতাংশই নারী) মাঝে ঋণ প্রদান করা হচ্ছে, যা বর্তমান অর্থবছরেও অব্যাহত থাকবে

উত্তর পশ্চিম শস্য বহুমুখীকরণ প্রকল্প (ঘঈউচ)-এর সফলতা বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে দ্বিতীয় শস্য বহুমুখীকরণ প্রকল্প (ঝঈউচ) নামে একটি প্রকল্প গৃহীত হয়েছে সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির ক্রেডিট ¤েপানেন্ট এর বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকল্পটির আওতায় রাজশাহী রংপুর বিভাগের পাশাপাশি খুলনা, বরিশাল ঢাকা বিভাগের ২৭ টি জেলার ৫২টি উপজেলায় ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে মোট দুই লক্ষ তিন হাজার কৃষক ঋণ সুবিধা পাবেন প্রকল্পটির ক্রেডিট কম্পোনেন্ট বাস্তবায়ন করার জন্য বেসিক ব্যাংক লিঃ এবং ইস্টার্ন ব্যাংক লিঃ-কে হোল সেলিং এর দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে ছাড়া মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের ঋণ প্রদানের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানে অভিজ্ঞ এমএফআই ব্র্যাক কে নির্বাচন করা হয়েছে

ঘঈউচ এর ন্যায় প্রকল্পেও উচ্চমূল্য ফসল (অনুচ্ছেদ .০৯ বর্ণিত) চাষের জন্য ঋণ প্রদান করা হচ্ছে সেই সাথে উচ্চমূল্য বৃক্ষরোপণের জন্যও প্রকল্প হতে ঋণ প্রদান করা হচ্ছে প্রকল্পটির ক্রেডিট ¤েপানেন্ট ২৬ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ প্রায় ২০৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে ইতোমধ্যে প্রকল্পে ঋণ সুবিধা প্রদান করা শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক হতে প্রকল্পে অংশগ্রহণকারী দুটি হোলসেল ব্যাংককে বরাদ্দকৃত অর্থের সমপরিমান প্রায় ২০৩ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে

কৃষি পল্লী ঋণের খাত/উপখাতে ঋণের সুদের হার ব্যাংকসমূহ নিজেরাই নির্ধারণ করবে তবে, কৃষি খাতের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত সুদহারের সর্বোচ্চ সীমা যথারীতি প্রযোজ্য হবে প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, কৃষি পল্লী ঋণ নীতিমালা কর্মসূচির আওতায় বিতরণকৃত ঋণে সুদের হারের সর্বোচ্চ সীমা % ব্যাংক সরাসরি কৃষককে ঋণ বিতরণ করলে গ্রাহক পর্যায়ে এবং এমএফআই লিংকেজে ঋণ বিতরণ করলে এমএফআই পর্যায়ে সুদের হারের এই সর্বোচ্চ সীমা প্রযোজ্য হবে কৃষি ঋণের ক্ষেত্রে বাৎসরিক ভিত্তিতে অথবা ঋণের মেয়াদান্তে (যে সকল ঋণের মেয়াদ ১২ মাসের অধিক নয়) সুদ আরোপ করতে হবে কৃষক/গ্রাহক পর্যায়ে প্রযোজ্য কৃষি পল্লী ঋণের খাত/উপখাতওয়ারী সুদের হার সংশ্লিষ্ট ব্যাংকসমূহ অনতিবিলম্বে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবহিত করবে

তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার সর্বস্তরের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে যতদূর সম্ভব সকল কৃষি পল্লী ঋণ গ্রহীতার মোবাইল নম্বর শাখা পর্যায়ে ব্যাংকসমূহকে সংরক্ষণ করতে হবে যে সকল কৃষি পল্লী ঋণ গ্রহীতার নিজস্ব মোবাইল ফোন রয়েছে, তাদের মোবাইল ফোন নম্বর ব্যাংক শাখায় সংরক্ষণ করতে হবে কৃষকের নিজের মোবাইল ফোন না থাকলে আত্মীয়/প্রতিবেশীর মোবাইল ফোন নম্বরও সংরক্ষণ করা যাবে তবে, মোবাইল ফোন নম্বর না থাকার অজুুহাতে কোনো কৃষককে কৃষি ঋণ প্রদান হতে বঞ্চিত করা যাবে না ব্যাংক শাখা/সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ঊর্ধŸতন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক সময় সময় ফোন করে কৃষকদের ঋণ প্রাপ্তি আদায়ের ব্যাপারে খবরাখবর নিতে হবে কৃষি ঋণ প্রাপ্তি আদায় সংক্রান্ত সমস্যা সম্পর্কে জানতে বাংলাদেশ ব্যাংক হতেও অনুরূপভাবে মাঝে মাঝে মোবাইল ফোনে কৃষকদের খোঁজ খবর নেওয়া হবে

 

এছাড়া, কৃষকের সুবিধার্থে কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণ আদায় ব্যবস্থায় মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেটসহ তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারকে নীতিগতভাবে সমর্থন প্রদান করা হবে

কৃষি নির্ভর বাংলাদেশের প্রকৃত কৃষকদের স্বার্থে গৃহীত কৃষি পল্লী ঋণ নীতিমালা বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনিটরিং কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের কৃষি ঋণ বিভাগে মনিটরিং উপবিভাগ এবং শাখা অফিসসমূহে মনিটরিং ইউনিট কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ মনিটরিং কার্যক্রমের মূল দিকগুলি নিম্নরূপ

ক্স            তফসিলী ব্যাংকসমূহ থেকে কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণ আদায়ের প্রয়োজনীয় তথ্যাদি সম্বলিত মাসিক বিবরণী সংগ্রহের মাধ্যমে অফ-সাইট মনিটরিং সম্পন্ন করা হয়

ক্স            বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় শাখা অফিসের ব্যাংক পরিদর্শন বিভাগ (ডিবিআই) কর্তৃক তফসিলী ব্যাংকসমূহের অন্যান্য ঋণ কার্যক্রমের পাশাপাশি কৃষি পল্লী ঋণ কার্যক্রমের অন-সাইট মনিটরিং সম্পন্ন করা হয় পাশাপাশি কৃষি ঋণ বিভাগ কর্তৃকও সময় সময় নমুনা ভিত্তিতে কৃষি পল্লী ঋণের সদ্ব্যবহার যাচাই করা হচ্ছে

ক্স            কৃষি পল্লী ঋণ কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করার জন্য রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর সাথে মাসিক ভিত্তিতে এবং বেসরকারি বিদেশী ব্যাংকগুলোর সাথে দ্বিমাসিক ভিত্তিতে ঋণ বিতরণের অগ্রগতি, লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা, ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা, তার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, ঋণ আদায় ইত্যাদি বিষয়ে সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে

ক্স            অনেক বেসরকারি ব্যাংক শাখা স্বল্পতার কারণে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের (গঋও) মাধ্যমে কৃষি ঋণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশ গ্রহণ করছে বিধায়, এমএফআই-এর মাধ্যমে বেসরকারি বিদেশী ব্যাংকসমূহের বিতরণকৃত কৃষি পল্লী ঋণ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণ গ্রহীতা পর্যায়ে সরেজমিনে যাচাই করার নির্দেশনা প্রদান করা হয় তাদের দাখিলকৃত রিপোর্ট/প্রতিবেদনসমূহ যাচাই-বাছাইসহ বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেও নমুনা ভিত্তিতে সরেজমিনে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করছে জেলা কৃষি ঋণ কমিটির সভায় বর্তমানে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর পাশাপাশি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বেসরকারি ব্যাংক অথবা উক্ত অঞ্চলে কর্মরত তাদের মনোনীত এমএফআই প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করে কৃষি পল্লী ঋণ কার্যক্রমে তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করছে উল্লেখ্য যে, উক্ত সভাসমূহে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধিও উপস্থিত থাকেন

ক্স            ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা বাড়ানোর জন্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে ঋণ বিতরণের জন্য ব্যাংকসমূহকে ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে গত তিন বছরে ব্যাংকসমূহ ধরণের প্রকাশ্যে ঋণ বিতরণ কার্যক্রমে ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করেছে এবং ধরণের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় শাখা অফিসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত থাকছেন

ক্স            নির্দিষ্ট কিছু ফসলে (ডাল, তৈলবীজ, মসলা জাতীয় ফসল এবং ভুট্টা) শতাংশ রেয়াতি সুদ হারে কৃষি ঋণ বিতরণ কার্যক্রমে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ব্যাপক প্রচারণার ফলে কৃষকদের মাঝে জাতীয় ফসল চাষ করার বিষয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে পাশাপাশি এই ঋণ বিতরণ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে মনিটরিং করার ফলে এই খাতে ব্যাংকসমূহের ঋণ বিতরণ বৃদ্ধি পাচ্ছে

ক্স            বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ব্যাংকগুলো হতে কৃষি ঋণ গ্রহীতার মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে ঋণ প্রাপ্তিতে স্বচ্ছতা, ঋণের ব্যবহার, ব্যাংক শাখার সহযোগিতা প্রভৃতি বিষয়ে সরাসরি ঋণ গ্রহীতা কৃষকদের সাথে সময় সময় যোগাযোগ করে প্রয়োজন অনুসারে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে গভর্নর মহোদয়ও সরাসরি কৃষকদের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলেছেন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কৃষি ঋণ মনিটরিং এর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে

ক্স            কৃষি পল্লী ঋণ সংক্রান্ত যে কোন অভিযোগ লিখিত অথবা ফোনের মাধ্যমে জানানো হলে সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে

কৃষি পল্লী ঋণ সম্পর্কিত তথ্য প্রাপ্তি এবং অভিযোগ জানানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে লক্ষ্যে কৃষকগণ এবং কৃষি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান ০২-৯৫৩০২৮০ নম্বরে ফোন বা মস.ধপফ@নন.ড়ৎম.নফ -মেইল বা ০২-৯৫৩০২০৬ নম্বরে ফ্যাক্স করে কৃষি ঋণ বিষয়ক যে কোন অভিযোগ জানাতে বা তথ্য পেতে পারবেন এছাড়া, মহাব্যবস্থাপক, কৃষি ঋণ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রধান কার্যালয়, মতিঝিল, ঢাকা- ঠিকানায় পত্র প্রেরণের মাধ্যমেও  কৃষি পল্লী ঋণ সম্পর্কিত তথ্য প্রাপ্তি এবং অভিযোগ জানাতে পারবেন

কৃষি পল্লী ঋণসহ ব্যাংকিং আর্থিক খাতে সেবা পেতে গ্রাহকগণকে হয়রানির হাত থেকে রক্ষা করা কিংবা তাদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকে গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ কেন্দ্র (সিআইপিসি) স্থাপন করা হয়েছে কৃষকগণ যে কোনো ফোন থেকে ১৬২৩৬ হটলাইন নম্বরে ফোন করে সরাসরি তাদের অভিযোগ জানাতে পারবেন গ্রাহকের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে

 

এছাড়া, জনসাধারণ সংশ্লিষ্টদের সুবিধার্থে বাংলাদেশ ব্যাংকের শাখা অফিসসমূহের গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ কেন্দ্রের ফোন নম্বর, মোবাইল ফ্যাক্স নম্বর নি¤œ দেওয়া হলোঃ

 

কার্যালয়               ফোন     মোবাইল              ফ্যাক্স

চট্টগ্রাম অফিস ০৩১-৬১৬৮০০ ০১৫৫৭৩৪৭০৮৯            ০৩১-৬৩৪৭৭৬

খুলনা অফিস     ০৪১-৭৩২৫৩৯ ০১৭৫৫৫০৪৫৬১           ০৪১-৭২৫৫৭৭

রাজশাহী অফিস              ০৭২১-৭৭২৮৭১               ০১৭২০৪৬৪৯৭৬           ০৭২১-৭৭৫৭৯২

সিলেট অফিস   ০৮২১-৭২৫৪৫৯             ০১৭৫৫৫৩৪২৯৭           ০৮২১-৭১৫৬৮৭

বরিশাল অফিস ০৪৩১-২১৭৪৫০৫           ০১৭৫৭৪৩৬৬৬৭          ০৪৩১-৬৪২৭১

বগুড়া অফিস    ০৫১-৫১৬১৭     ০১৭১০৪৩৭৪৭৯             ০৫১-৫১১৯০

রংপুর অফিস    ০৫২১-৬১০৩৭ ০১৭৫৫৫০৭৫৪৭           ০৫২১-৬৪৮২৯

ময়মনসিংহ অফিস        ০৯১-৬২০২৫   ০১৭১৮৫২৯৮৪১             ০৯১-৬২০৬৫

মাঠ পর্যায়ে কৃষি পল্লী ঋণ কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়ন সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে লীড ব্যাংক পদ্ধতির আওতায় জেলা কৃষি ঋণ কমিটি কার্যকর ভূমিকা পালন করে আসছে পদ্ধতির আওতায় কোন ইউনিয়নে কোন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক বা বিশেষায়িত ব্যাংক শাখা কৃষি ঋণ বিতরণ করবে তা নির্দিষ্ট করে দেয়া আছে পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণ আদায় কার্যক্রম তদারকি এবং সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক বিশেষায়িত ব্যাংকসমূহ এবং কৃষির সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে উপজেলা কৃষি ঋণ কমিটি গঠন সভা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একটি কার্যকর ব্যবস্থাও এই পদ্ধতির আওতায় চালু আছে প্রত্যেক জেলার জেলা প্রশাসক হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট জেলার কৃষি ঋণ কমিটির সভাপতি এবং প্রত্যেক জেলায় সুনির্দিষ্ট একটি ব্যাংক লীড ব্যাংক হিসেবে স্ব-স্ব জেলার কৃষি ঋণ কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালন করে থাকে জেলা কৃষি ঋণ কমিটি মাসিক ভিত্তিতে সভা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্ব-স্ব জেলার কৃষি পল্লী ঋণ সংক্রান্ত তদারকি এবং সমন্বয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে

 

বর্তমানে বেসরকারি বিদেশী ব্যাংকসহ বাংলাদেশে কার্যরত সকল তফসিলী ব্যাংকের জন্য কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণ বাধ্যতামূলক জেলা পর্যায়ে বেসরকারি ব্যাংকসমূহের অনেকের শাখা থাকলেও অনেক বেসরকারি ব্যাংকের অনেক জেলাতে শাখা নেই বিদেশী ব্যাংকসমূহের শাখা নেটওয়ার্ক আরও সীমিত বর্তমানে বেসরকারি বিদেশী ব্যাংকসমূহ তাদের শাখার মাধ্যমে এবং/অথবা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির অনুমোদনপ্রাপ্ত ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে পার্টনারশিপের মাধ্যমে কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণ করছে

 

সকল ব্যাংকের অংশগ্রহণে কৃষি ঋণ কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার বর্তমান প্রেক্ষাপটে কৃষি ঋণ কার্যক্রমকে আরও সমন্বিত কার্যকর করার লক্ষ্যে জেলা কৃষি ঋণ কমিটিতে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক বিশেষায়িত ব্যাংকসমূহের পাশাপাশি বেসরকারি বিদেশী ব্যাংকসমূহের প্রতিনিধিত্ব থাকা প্রয়োজন

 

লীড ব্যাংক পদ্ধতির লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং বিদ্যমান কাঠামোর অন্যান্য সকল দিক অপরিবর্তিত রেখে জেলা কৃষি ঋণ কমিটিতে বেসরকারি বিদেশী ব্যাংকসমূহের প্রতিনিধিত্ব নি¤œাক্তভাবে নির্ধারিত হবে

 

 

                কোনো জেলায় সংশ্লিষ্ট বেসরকারি বিদেশী ব্যাংকের শাখার অবস্থা           উক্ত জেলায় সংশ্লিষ্ট বেসরকারি বিদেশী ব্যাংকের কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অবস্থা  উক্ত জেলার কৃষি ঋণ কমিটিতে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি বিদেশী ব্যাংকের প্রতিনিধিত্ব

            সংশ্লিষ্ট জেলায় যে  ব্যাংকের শাখা রয়েছে               সংশ্লিষ্ট জেলায় শুধুমাত্র নিজস্ব শাখার মাধ্যমে কৃষি পল্লী ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়      সংশ্লিষ্ট জেলায় ব্যাংকের শাখা/জোনের প্রধান উক্ত জেলারজেলা কৃষি ঋণ কমিটি’-তে প্রতিনিধিত্ব করবেন

                                নিজস্ব শাখার পাশাপাশি ব্যাংকটির উদ্যোগে ঈৎবফরঃ ডযড়ষবংধষরহম এর আওতায় ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান (গঋওং)-এর সাথে পার্টনারশিপের মাধ্যমেও সংশ্লিষ্ট জেলায় কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণ করা হয়         সংশ্লিষ্ট জেলায় ব্যাংকের শাখা/জোনের প্রধান নিজস্ব শাখা/জোনের পাশাপাশি উক্ত জেলায় গঋওং পার্টনারশিপ  সংশ্লিষ্ট কৃষি পল্লী ঋণের তথ্যসহজেলা কৃষি ঋণ কমিটি’-তে প্রতিনিধিত্ব করবেন

                                নিজস্ব শাখার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলায় কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণ করা হয় না তবে, ব্যাংকটির উদ্যোগে ঈৎবফরঃ ডযড়ষবংধষরহম এর আওতায় ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান (গঋওং)-এর সাথে পার্টনারশিপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলায় কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণ করা হয়              সংশ্লিষ্ট জেলায় ব্যাংকের শাখা/জোনের প্রধান উক্ত জেলায় গঋওং পার্টনারশিপ  সংশ্লিষ্ট কৃষি পল্লী ঋণের তথ্যসহজেলা কৃষি ঋণ কমিটি’-তে প্রতিনিধিত্ব করবেন

             সংশ্লিষ্ট জেলায় যে ব্যাংকের কোনো শাখা নেই       সংশ্লিষ্ট জেলায় নিজস্ব শাখা না থাকলেও ব্যাংকটির উদ্যোগে ঈৎবফরঃ ডযড়ষবংধষরহম এর আওতায় ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান (গঋওং)-এর সাথে পার্টনারশিপের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জেলায় কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণ করা হয়              ব্যাংক কর্তৃক মনোনীত সংশ্লিষ্ট ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান (গঋওং)-এর স্থানীয় সমন্বয়কারী ব্যাংকটির পক্ষেজেলা কৃষি ঋণ কমিটি’-তে প্রতিনিধিত্ব করবেন

ঋণ পরিশোধের জন্য কিস্তি এবং সময়সীমা সংশ্লিষ্ট শাখা/আঞ্চলিক কর্মকর্তাগণ এসঙ্গে সংযুক্ত ঋণ পরিশোধসূচির আলোকে নিজেরাই নির্ধারণ করবেন ফসল তোলার মৌসুম  শুরু হওয়ার পর তথা বিপণনের সময় ব্যাংক শাখা ঋণ আদায়ের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করবে কৃষি ঋণের সার্বিক আদায়ের হার গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে আনয়ন করতে হবে স্মরণ রাখতে হবে, ঋণ আদায় না হলে বিতরণ ব্যবস্থা ব্যাহত হবে ঋণ মওকুফের মানসিকতা যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে; কারণ ঋণ মওকুফ করা হলে পরবর্তীতে গ্রাহকদের মধ্যে ঋণ পরিশোধে অনাগ্রহ দেখা দেয় তবে দুর্যোগ দুর্বিপাকের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঋণ আদায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শক্রমে সাময়িকভাবে স্থগিত/বিলম্বিত করা যাবে ব্যাংকসমূূহকে ঋণ শ্রেণীবিন্যাসকরণের আর্থিক ক্ষতি এড়ানোর লক্ষ্যে ঋণ আদায় কার্যক্রম জোরদার করতে হবে, যাতে কৃষি পল্লী  ঋণের জন্য তারল্য সংকট সৃষ্টি না হয় এবং তহবিলের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়

কৃষি ঋণ আদায়ের গুরুত্ব উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টদের মাঝে সচেতনতামূলক প্রচার প্রচারণার উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে

কৃষি পল্লী ঋণ আদায় কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার জন্য নি¤œাক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে

 

) ঋণ আদায়ে কর্মকর্তা/কর্মচারীদের মধ্যে উৎসাহ/আগ্রহ সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যাংকসমূহ নিজস্ব নীতিমালার আলোকে আর্থিক বা অন্য যে কোন প্রকার প্রশংসাপত্র/পুরস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে   

সময়মত সম্পূর্ণ ঋণ পরিশোধ করলে ব্যাংক সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে সুদের ক্ষেত্রে ছাড় প্রদানের ব্যবস্থা করতে পারে

দীর্ঘদিন অনিষ্পন্ন থাকা সার্টিফিকেট মামলাসমূহ নিষ্পত্তির কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে জন্য প্রয়োজনে এককালীন পরিশোধের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে

শ্রেণীকৃত ঋণসমূহ প্রয়োজনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে পরামর্শক্রমে পুনঃতফসিলের উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে

যে সমস্ত শাখার মেয়াদোত্তীর্ণ/খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫০ শতাংশের বেশি সে সব শাখার ঋণ আদায়ের উদ্দেশ্যে পৃথকআদায় সেলগঠন করা যেতে পারে

কৃষি ঋণ আদায়ের উদ্দেশ্যে কৃষক সমাগম হয় এমন এলাকায় পূর্ব হতে প্রচার চালিয়েকৃষি ঋণ আদায় ক্যাম্প”-এর আয়োজন করা যেতে পারে

) কৃষি ঋণ আদায়ে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার উৎসাহিত করা যেতে পারে

.          তামাদি ঋণসমূহ নিয়মিতকরণপূর্বক আপোষরফা/সমঝোতা (সোলেনামা) এর মাধ্যমে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার বা নিষ্পত্তি করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিষয়ে অর্জিত অগ্রগতি মাসিক ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগকে জানাতে হবে ;

.           সার্টিফিকেট মামলা এড়ানোর লক্ষ্যে ব্যাংকার-গ্রাহক উভয়ের সম্মতিতে অনাদায়ী ঋণসমূহে ইধষধহপব ঈড়হভরৎসধঃরড়হ ঈবৎঃরভরপধঃব, ঞড়শবহ গড়হবু প্রভৃতির মাধ্যমে ঋণ তামাদি হওয়া প্রতিবিধানে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে সার্টিফিকেট মামলার সংখ্যা কোনক্রমেই বৃদ্ধি না পায় ;

.           রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক বিশেষায়িত ব্যাংকসমূহ শ্রেণীকৃত ঋণসহ সকল কৃষি ঋণ আদায়ে তদারকি জোরদারকরণ এবং প্রয়োজনে আলাদা আদায় সেল/ইউনিট গঠন করবে ;

.           কৃষি ঋণের ব্যবহার পরিশোধের গুরুত্ব এবং মামলার ভয়াবহতা পরিণতি সম্পর্কে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধির নিমিত্তে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ব্যবস্থা তথা সভা-সমাবেশের আয়োজন করতে হবে ;

.           অনাদায়ী ঋণগুলো তামাদি হওয়ার পূর্বে চিহ্নিত করে সহজ কিস্তি আদায়ের মাধ্যমে নিয়মিতকরণের ব্যবস্থা করতে হবে ;

.            প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কৃষি ঋণ আদায় স্থগিতকরণ/নতুন ঋণ প্রদান/পুনঃতফশীল সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং

.           নিয়মিতভাবে ঋণ পরিশোধকারী কৃষককে পুরস্কার প্রদান তা প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে অন্যান্য কৃষকগণকে ঋণ পরিশোধে উৎসাহিত এবং উদ্বুদ্ধকরণের কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে

কৃষি ঋণ সংক্রান্ত প্রোডাক্ট এবং সুবিধাসমূহ জনসাধারণের কাছে সহজে পৌঁছানোর স্বার্থে তা ব্যাংকসমূহের স্ব স্ব ওয়েবসাইটসহ সহজে দৃষ্টিগোচর হয় এমন স্থানে প্রদর্শন করতে হবে কৃষি ঋণ বিতরণে অধিকতর স্বচ্ছতা আনয়নের উদ্দেশ্যে কৃষি ঋণ বিতরণ সংক্রান্ত তথ্য শাখার নোটিশবোর্ডে সংরক্ষণ নিয়মিত আপডেট করতে হবে

পৃথিবী জুড়ে শিল্প ক্ষেত্রে অতি মাত্রায় কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাসসহ বিভিন্ন গ্রিন হাউজ গ্যাস নিঃসরণ বনভূমি ধ্বংসের কারণে বায়ুমন্ডলের তাপমাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বৈশ্বিক উষ্ণায়নই জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণ মূলতঃ ভৌগোলিক কারণেই বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে সামান্য উঁচু দেশগুলোর বেশিরভাগই দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার অন্তর্গত জলবায়ু পরিবর্তন সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিই শুধু নয়পৃথিবীর ধানের ঝুড়িহিসেবে পরিচিত এই দেশগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা পরিমাণ আরো বাড়িয়ে দেবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সাইক্লোন, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস লবণাক্ততা সৃষ্টি হচ্ছে পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঋতু পরিবর্তনের ¦াভাবিক নিয়মে বৈচিত্র্য দেখা দিচ্ছে দেশের মধ্যাঞ্চলের বন্যা জলাবদ্ধতা, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আকস্মিক বন্যা, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খরা এবং লবণাক্ততা এবং উপকূলীয় অঞ্চলের জলোচ্ছ্বাস ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কৃষির জন্য প্রকট সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে

 

যেহেতু ফসলের ক্ষতি হলে প্রদত্ত কৃষি ঋণ আদায় ঝুঁকির সম্মুখীন হয় সেহেতু ব্যাংকগুলো কৃষিতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ তথা জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলার জন্য নিজেরা সচেতন হওয়ার পাশাপাশি কৃষকদেরকে নি¤œাক্ত পদক্ষেপ গ্রহণে উৎসাহিত করবে

 

)          এলাকাভেদে প্রয়োজনে ঋণ বিতরণ আদায়ের সময়সীমায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে;

)           লবণাক্ত এলাকায় লবণাক্ততা-সহিষ্ণু ফসল চাষ;

)           জলাবদ্ধ বন্যা প্রবণ এলাকায় পানি-সহিষ্ণু ফসল চাষ;

)           খরা প্রবণ এলাকায় খরা-সহিষ্ণু ফসল চাষ;

)           বিপুল ফলন হ্রাস ফসল হানি এড়াতে খরার সময় সম্পূরক সেচ প্রদান;

)           সেচ কাজের জন্য ভূ-নি¤œস্থ পানির পরিবর্তে ভূ-উপরিস্থিত পানির ব্যবহার উৎসাহিতকরণ;

)           রাসায়নিক সার কীটনাশকের পরিবর্তে জৈব সার প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে বালাই/কীটনাশকরণ;

)          বৃক্ষ নিধন করে বা পাহাড় কেটে প্রস্তুতকৃত জমিতে ঋণ প্রদানে ব্যাংকগুলো রক্ষণশীল ভূমিকা গ্রহণ করবে;

)          স্বাভাবিকভাবে বন্যামুক্ত বছরে বাড়ির ভিটায় ফলমূল, শাক-সবজি চাষ, সামাজিক বনায়ন, পশুপালন এবং বসতবাড়িতে হাঁস-মুরগি পালন বাগান উন্নয়ন কার্যক্রমে ঋণ সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে;

)         জলবায়ূ পরিবর্তনজনিত সমস্যা মোকাবেলার জন্য বিকল্প এবং কৌশলগত চাষাবাদের বিভিন্ন পদ্ধতি (যেমন-লবনাক্ত এলাকায়  ধানের পর মুগ ডালের চাষ, পাহাড়ের পাদদেশে সরিষার পর খরিপ- মৌসুমে বারিমুগ- চাষ, রোপা আমন ধানের সাথে মসুরের সাথী ফসল চাষ (রিলে ক্রপ), শুষ্ক  ভূমি অঞ্চলে প্রাইম পদ্ধতিতে মসুর চাষ অনুসরণ করার জন্য কৃষকগণকে উৎসাহিতকরণ

 

 

জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলা সম্পন্ন কতিপয় ফসলের একটি নমুনা তালিকা নি¤œরূপ

ক্রমিক নং           ফসল    জলবায়ু পরিবর্তনে অভিযোজনের সামর্থ্য/সুবিধা

           বারিগম-২১ (শতাব্দী)      পাতার দাগ রোগ সহনশীল, মরিচা রোগ প্রতিরোধী এবং তাপ সহনশীল

           বারিগম-২৩ (বিজয়)       পাতার দাগ রোগ সহনশীল, মরিচা রোগ প্রতিরোধী এবং তাপ সহনশীল

          বারিগম-২৫       পাতার দাগ রোগ সহনশীল এবং মরিচা রোগ প্রতিরোধী লবণাক্ততা সহিষ্ণু

           বারিগম-২৬       পাতার দাগ রোগ সহনশীল, মরিচা রোগ প্রতিরোধী এবং তাপ সহনশীল

          বারিগম ট্রিটিক্যালি-      খরা সহিষ্ণু এবং প্রতিকূল আবহাওয়া সহনশীল

          বারি বার্লি-        লবণাক্ততা সহনশীল এবং রোগ বালাই কম

           রাই- (সরিষা)   খরা কিছুটা লবণাক্ততা সহনশীল

          বারি সরিষা-     অলটারনেরিয়া ব্লাইট রোগ এবং সাময়িক জলাবদ্ধতা সহনশীল

           বারি সরিষা-    অলটারনেরিয়া ব্লাইট রোগ এবং সাময়িক জলাবদ্ধতা সহনশীল

১০        বারি সরিষা-১১   আমন ধান কাটার পর জাতটি  নাবি জাত হিসাবে সহজে চাষ করা যায় খরা লবণাক্ততা সহনশীল

১১         বারি সরিষা-১৬ খরা লবণাক্ততা সহিষ্ণু অলটারনেরিয়া রোগ অরোবাংকি পরজীবী সহনশীল

১২        বারি আলু- (হীরা)            তাপ সহিষ্ণু পরিবেশের প্রতিকূল অবস্থা কিছুটা সহ্য করতে পারে জাতটি ভাইরাস রোগ সহনশীল

১৩        বারি আলু-২২ (সৈকতলবণাক্ত এলাকার জন্য উপযোগী ভাইরাস রোগ সহনশীল

১৪        বারি টমেটো-  উচ্চ তাপ সহনশীল

১৫        বারি টমেটো-  (চৈতীউচ্চ তাপ সহ্য করতে পারে ব্যাক্টেরিয়াজনিত ঢলে পড়া রোগ সহনশীল

১৬       বারি টমেটো-১০ (অনুপমা)          উচ্চ তাপ ব্যাক্টেরিয়াজনিত ঢলে পড়া রোগ সহনশীল

১৭        বারি হাইব্রিড টমেটো- (গ্রীষ্মকালীন)      উচ্চ তাপ সহিষ্ণু গ্রীষ্মকালীন সংকর জাত ব্যাক্টেরিয়াজনিত ঢলে পড়া রোগ সহনশীল

১৮        পাট কেনাফ- (বট কেনাফ)                জলাবদ্ধতা সহিষ্ণু

১৯        ইক্ষু-৩৯               খরা, জলাবদ্ধতা, বন্যা এবং লবণাক্ততা সহিষ্ণু

২০       ইক্ষু-৪০ খরা, জলাবদ্ধতা, বন্যা এবং লবণাক্ততা সহিষ্ণু

২১        বারি চিনাবাদাম -           উচ্চ ফলনশীল স্বল্প মেয়াদী

২২       বারি আম-       উচ্চ ফলনশীল আগাম জাত

২৩       বারি আম-       উচ্চ ফলনশীল মৌসুমী জাত

২৪       বারি আম-        উচ্চ ফলনশীল মৌসুমী জাত

২৫       বারি আম-       উচ্চ ফলনশীল নাবী <

কৃষি ঋণ বিতরণ বর্তমানে সকল ব্যাংকের জন্য বাধ্যতামূলক কিন্তু, নীতিমালায় অনেক নতুন বিষয় সংযোজন এবং বেসরকারি বিদেশি ব্যাংকসমূহের জন্য কৃষি ঋণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণের বিষয়টি নতুন হওয়ার কারণে কৃষি ঋণ সংক্রান্ত নীতিমালা এবং অগ্রাধিকার খাতসমূহসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাপারে মাঠ পর্যায়সহ বিভিন্ন পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যাংকারদের মাঝে আরো বেশি সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নিতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকসমূহ স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের মাঝে কৃষি পল্লী ঋণ বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রশিক্ষণ, কর্মশালার আয়োজনসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ হতে প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল সহযোগিতা প্রদান করা হবে

বার্ষিক কৃষি পল্লী ঋণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যাংক/অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংকের চাহিদা মেতাবেক কৃষি পল্লী ঋণ সংক্রান্ত নির্ভুল তথ্য/বিবরণী মাসিক ভিত্তিতে সময়মত সরবরাহ করবে দ্বৈত-গণনা (ফড়ঁনষব-পড়ঁহঃরহম) এড়াতে এসএমই খাতে প্রদর্শিত কোনো ঋণ কৃষি খাতে প্রদর্শন করা যাবে না

বিগত কয়েক বছরের ব্যাংকসমূহের কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণের তথ্য-উপাত্ত তথা গুণগতমান পর্যালোচনায় দেখা গিয়েছে যে, কোন কোন ক্ষেত্রে ঋণ মঞ্জরি, বিতরণ তদ্সংক্রান্ত বিবরণীতে প্রদত্ত তথ্যের মধ্যে অসামঞ্জস্যতা পরিলক্ষিত হয় এরূপ কতিপয় বিষয় নি¤œ স্পষ্টীকরণ করা হলো এবং সেই মোতাবেক প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ তথ্যবিবরণী সরবরাহ করতে হবেঃ

) কৃষি পল্লী ঋণ নীতিমালার আওতায় চলতি মূলধন খাতে কোনো ঋণ রিভলভিং টাইম লোন, ওভারড্রাফট হিসেবে বৎসরের জন্য মঞ্জুর করা হলে মঞ্জুরিপত্রে অন্যান্য শর্ত যাই থাকুক না কেন মঞ্জুরিকালীন সময়ের মধ্যে উক্ত পরিমাণ ঋণ বিতরণ একবারই প্রদর্শন করা যাবে

) ইতোমধ্যে বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি সমন্বয়ের উদ্দেশ্যে কোনো ঋণ মঞ্জুর করা হলে উক্ত ঋণ নুতন কৃষি পল্লী ঋণ বিতরণ হিসেবে প্রদর্শন করা যাবে না

) ঋণ অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রথম ব্যাংক কর্তৃক বিতরণকৃত ঋণ অধিগ্রহণের জন্য দ্বিতীয় ব্যাংক কর্তৃক বিতরণকৃত ঋণ একই অর্থবছরে হলে দ্বিতীয় ব্যাংক কর্তৃক অধিগ্রহণকৃত ঋণ কৃষি পল্লী ঋণ হিসেবে প্রদর্শন করা যাবে না

) পুনঃতফসিলীকরণের উদ্দেশ্যে মঞ্জুরিকৃত ঋণ কৃষি পল্লী ঋণ হিসেবে প্রদর্শন করা যাবে না

) পোল্ট্রি মৎস্য খামারের জন্য খাদ্য তৈরীর কাঁচামাল, ঔষধ ইত্যাদি আমদানীর উদ্দেশ্যে এলসি মূল্য পরিশোধের নিমিত্তে মঞ্জুরিকৃত ঋণ মঞ্জুরীকালীন সময়ের মধ্যে একবারই বিতরণ প্রদর্শন করা যাবে এক্ষেত্রে চধুসবহঃ অমধরহংঃ উড়পঁসবহঃ (চঅউ) হিসেবে প্রদত্ত ঋণের অংক হিসেবে নিতে হবে

এছাড়া, জেলা কৃষি ঋণ কমিটির সভায় তথ্য প্রেরণের বিষয়ে নি¤œাক্ত ব্যবস্থাসমূহ গ্রহণ করতে হবেঃ

) জেলা কৃষি ঋণ কমিটির সভায় উপস্থাপনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যাংককে জেলার লীড ব্যাংক বরাবর যথাসময়ের মধ্যে তথ্য প্রেরণ করতে হবে

) কৃষি পল্লী ঋণ নীতিমালা আওতায় এমএফআই লিংকেজ এর মাধ্যমে যে সকল জেলায় ঋণ বিতরণ করা হয়েছে সে সকল জেলার ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা উক্ত বিতরণকৃত কৃষি পল্লী ঋণের তথ্যাদি জেলা কৃষি ঋণ কমিটির সভায় সরবরাহ করবে

এছাড়াও, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সময় সময় যাচিত কৃষি পল্লী ঋণ সংক্রান্ত তথ্য দ্রুততম সময়ে প্রদান করতে হবে

Krishiloan APP available now.

Google Play Store Apple Store

Secure By

comodo SSL